প্রাণ ফিরছে আইফেল টাওয়ারে, স্বস্তির নিশ্বাস ফরাসীদের

মো. আবুল কালাম মামুন, ফ্রান্স থেকে :

মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ৪ মাস পর ফ্রান্স জনজীবনে স্বস্তি নেমে এসেছে। পুরোদমে না হলেও স্ব‌স্তির বাতাস উপ‌ভোগ কর‌তে মি‌ষ্টি রো‌দে‌লা দি‌নে বে‌রি‌য়ে আসছেন ফরাসীরা। য‌দিও ফ্রা‌ন্সের সকল মিউাজয়ামগু‌লো এখনও খুলে দেয়া হয়নি পর্যটক‌দের প‌রিদর্শনের জন্য। 

তবে পার্ক ও খোলা প‌রিবেশে সেন নদীর দুইপাড়ে বসে সামাজিক দুরত্ব বজায় রে‌খে সীমিত আকারে আনন্দ আড্ডার নি‌ষেধাক্ষা তু‌লে নেয়া হয়েছে। ফ‌লে প্যা‌রিসের ঐতিয্যবা‌হী আইফেল টাওয়ারের পাদদেশসহ সেন নদীর দু্ই পাড়ে একটু স্ব‌স্তির নিস্বাস নিতে বেরিয়ে পড়েছে ফরাসী‌দের সা‌থে বাংলা‌দেশীরাও। 

যদিও করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ফ্রান্স মৃত্যুশূন্য একটি দিনও পার করতে পারে নি ফ্রান্স। সিঙ্গেল ডিজিটের মৃত্যুটি ছিল গতকাল। আর এতেই অনেকে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন।

করোনা ভাইরাসে ফ্রান্সে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ হাজার লাশ গুণতে হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল মারা যান ৭ জন। আর এ নিয়ে ফ্রান্সে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৯ হাজার ৬৪০ জন।

ফ্রান্সে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়। কবে কখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে, এ নিয়ে দেশটির উচ্চমহল ছিল শঙ্কিত। কিন্তু লকডাউনকে কঠোর থেকে কঠোরতর করে তোলা এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও ঢেলে সাজিয়ে এখন অনেকটা সফল হয়ে ওঠেছে ফ্রান্স।

গত ১১ মে লকডাউন প্রথমবারের মতো শর্ত সাপেক্ষে তুলে নেয়া হয়। এর পর থেকেই ফ্রান্স ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন- লকডাউন তুলে নেয়ার পর পরিস্থিতির আবার অবনতি হবে। কিন্তু সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে অবনতি না হয়ে উন্নতির দিকেই হাটলো দেশটি। গত ২ জুনের পর শর্তাদি তুলে নেয়া হয়।

এদিকে ২২ জুন থে‌কে স্কুল কলেজও খোলা হয়েছে। খোলার প্রথম দিনেই ছাত্রছাত্রীদের উপ‌স্থি‌তি লক্ষনীয় ছিলো। ফ্রান্সে বর্তমান পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক বলা না গেলেও হাতের নাগালে, এটি বলা যেতেই পারে।ত‌বে অ‌তিসত্বর মহামারী কেটে যাবে, প্যা‌রিস ফিরে পাবে তার আাগের প্রাণচাঞ্চল্য পরিবেশ। 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!