প্রধানমন্ত্রীর বিস্ময় প্রকাশ

কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এক মাসের খাবারের বিল ২০ কোটি টাকা এসেছে বলে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অতি শিগগির এ ঘটনা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এক মাসে ২০ কোটি টাকা খাবারের বিল, এটি অস্বাভাবিকই মনে হচ্ছে। এটি আমরা পরীক্ষা করে দেখছি। এত অস্বাভাবিক কেন হবে? যদি কোনও অনিয়ম হয়, অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেবো।

সোমবার (২৯ জুন ) একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টম (বাজেট) অধিবেশনে আলোচনায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এক মাসে খাবারের বিল ২০ কোটি টাকা হয়েছে বলে সম্প্রতি খবর ছড়িয়ে পড়ে। এত ব্যয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা হচ্ছে।

আজ বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের খাবারের বিল ২০ কোটি টাকার প্রসঙ্গটি তোলেন। এর পরই প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তৃতার সঙ্গে একমত পোষণ করে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এক মাসের খাবারের বিল ২০ কোটি টাকা কী করে হয়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এখানে বিরোধী দলের উপনেতা ঠিকই বলেছেন, থাকা-খাওয়া বাবদ মেডিকেল কলেজের হিসাব অনুযায়ী ২০ কোটি টাকা ব্যয় একটু বেশিই মনে হচ্ছে । তবে, এটা আমরা তদন্ত করে দেখছি, এত অস্বাভাবিক কেন হবে। এখানে কোনো অনিয়ম হলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে তার সরকারের দেওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটকে কেউ কেউ উচ্চাভিলাষী বললেও সরকার এই বাজেটের সফল বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট বাস্তবায়নে আমরা অতীতে কখনো ব্যর্থ হইনি এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হব না। আমরা কখনো হতাশায় ভুগি না। আমরা সব সময় একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাই।

দেশে পর্যাপ্ত চালের মজুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে যে সংকটই আসুক না কেন, আওয়ামী লীগ সরকার তা শক্তভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে বলেও এ সময় দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোভিড-১৯-এর প্রভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে যে সাময়িক প্রয়োজন উদ্ভূত হয়েছে তা মেটানো এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি হবে, তা পুনরুদ্ধারের কৌশল বিবেচনায় নিয়ে অর্থমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, এটি আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭তম এবং বর্তমান মেয়াদের দ্বিতীয় বাজেট। আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সরকার পরিচালনা করেছিলেন সেখানে তিনটি বাজেট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সে হিসাবে এটি আওয়ামী লীগের ২০তম বাজেট, যেটি আওয়ামী লীগ সরকার এ দেশকে উপহার দিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলা এবং এর অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য আমরা গতানুগতিক বাজেট থেকে সরে এসে সরকারের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে এসেছি। স্বাস্থ্য খাতকে এবার সর্বাপেক্ষা অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এ খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ, প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণ প্রভৃতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তা ছাড়া কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট বরাদ্দের দিক দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অবস্থান পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে, যা গত অর্থবছরে ছিল অষ্টম স্থানে’, যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সর্বশেষ পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, তাঁর সরকারের যথাযথ এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। যদিও একটি মৃত্যুও তার সরকারের কাম্য নয়। তিনি বলেন, করোনায় আক্রান্তের তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। যেখানে ভারতে ৩ দশমিক ০৮, পাকিস্তানে ২ দশমিক ০৩, যুক্তরাজ্যে ১৪ দশমিক ০৩ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৫ শতাংশ। ২৮ জুন পর্যন্ত সমগ্র বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১ লাখ ২ হাজার। তার মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ লাখ ১ হাজার ৬৪৪ জন। বিশ্বে আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর হার ৫ দশমিক ০১ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮৭ জন রোগী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ৭৩৮ জন এবং সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৫৫ হাজার ৭২৭ জন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!