প্রতিবেশী ভাবনাগুলো নাচে! মৃত্যুঞ্জয় হাসে

প্রতিবেশীর ভাবনাগুলো এক সময় রবিকে বেশ আহত করত। প্রতিবেশীর বলতে না পারা ‘হিংসার জ্বালা’ ভাবনার আগুনে পানি ঢেলে রবি জনগণের সেবায় ঘর ছাড়ে। প্রতিবেশীর দেয়া বিদায়বেলা কান গরমে ‘বাবা তোমার জন্য গর্ব করি’ অস্ফুট বিদ্রূপ টিপ্পনী হজমে সে এখন সরকারের সেবক।

রবি গাঁয়ের ছেলে।বারণাবত গাঁয়ে পঞ্চপাণ্ডবের বিশ্রামে দেয়া আগুন না দেখেই লেলিহান শিখার শিহরণ অনুভব করতে পারে।চাকরিতে ঢোড়া-দাঁড়াশ না সেজে এক লাফে অজগর! রংবাহারি লাইট-লেসার নামফলক, ডেকোরেশন, মখমল সোফায় বসে-শুয়ে দেশসেবা! মাছের কাঁটা, হাড্ডি-মাংস রবির এখন বেশ অপছন্দ! এতো সময়টা কোথায়? অজগরের মতো গিলে গিলে ঘুম! রবির ড্রয়িং-বেড-ডাইনিং এখন অজগরে ঠাঁসা।

করোনা অতিমারী (pandemic) রবির বেশ পছন্দ! আগে কেউ-কেউ রবির খাবারে বাগড়া বসাত।তারা ছাগল-ভেড়া নিয়ে টানাটানি করত! এখন করোনাতে কেউ তাকাতে আসে না।রবি ছাগল-মহিষ-গরু সবই খেয়ে ফেলে।রুচিতে -অভিরুচি!

প্রতিবেশী ভাবনায় সব জঞ্জাল-আপদ দূর করে রবি বহুমুখী সরীসৃপ-গিরগিটি-স্তন্যপায়ী ফান্ড নিয়ে মহাব্যস্ত! করোনায় অমর ভাবনা গবেষণায় রবি ‘মৃত্যুঞ্জয়’ সেজে হাসে।

প্রতিবেশী হিংসা ভাবনায় এখন রবিরা আহত-নিহত কোনোটাই হন না! সব ভাবনায় কখনও রবিরা হাসেন-কাঁদেন, কখনো মৃত্যুঞ্জয় সেজে দেশ দরদী হয়ে নির্ঘুম রাত কাটান!

লেখক: রাজীব কুমার দাশ, কবি ও প্রাবন্ধিক
পুলিশ পরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশ।
gmail-rajibkumarvandari800@gmail.com

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!