প্রতারণার অস্ত্র বিয়ে, অবশেষে নয় নম্বরে ধরা খেলেন সুলায়মান

একটি কিংবা দুটি নয়, গুণে গুণে নয় বছরে নয় জনকে বিয়ে করেছেন তিনি।বিয়ে করছেন তিনি। একের পর এক বিয়ে করে স্ত্রীদের পরিবারের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রামের গোয়েন্দা পুলিশ।বন্দরনগরীর পাহাড়তলী এলাকার একটি বাসা থেকে শুক্রবার গভীর রাতে মোহাম্মদ সুলায়মান নামে ২৯ বছর বয়েসী ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় তার নবম স্ত্রীকে।

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, সুলায়মানের গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলায়। চট্টগ্রামে তিনি থাকতেন পাহাড়তলী এলাকায়।

১৭ বছর বয়সে সে চট্টগ্রাম এসে একটি পোশাক কারখানায় কাজ নেয়। এক সময় সে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ও মোবাইল ফোনে অল্প বয়েসী মেয়েদের পটিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিয়ে করা শুরু করে। মূলত পোশাক কর্মীদের সে টার্গেট করত।এভাবে গত নয় বছরে সুলায়মান নয়জনকে বিয়ে করেছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা আবু বক্কর বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সে এমনভাবে পরিচয় দিত যে সে প্রশাসনের কোনো বড় পদে আছে। নিজের ছবি সেভাবে ফটোশপ করিয়ে সে প্রেমিকাদের পাঠাতো। তাতে মেয়ের পক্ষের লোকজন গলে গিয়ে বিয়ে দিয়ে দিত।

সুলায়মানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এভাবে বিয়ে করার পর বেশ কয়েকজন স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন জায়গায় চাকরি দেওয়ার নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। স্ত্রীদের মাধ্যমে বিভিন্ন এনজিও থেকেও ঋণ নিয়ে পরে লাপাত্তা হয়ে যেতেন।

সম্প্রতি অষ্টম স্ত্রীর কাছ থেকে তার ভাই ও বোনকে চাকরি দেওয়ার নাম করে আড়াই লাখ এবং এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া এক লাখ টাকা হাতিয়ে পালিয়ে যান সুলায়মান। তখনই অভিযোগ যায় পুলিশের কাছে, তাকে ধরতে শুরু হয় অভিযান।তাকে গ্রেপ্তার করার পর পুলিশ জানতে পেরেছে, সুলাইমান তার নবম স্ত্রীর কাছ থেকে যৌতুক হিসেবে নিয়েছেন দুই লাখ টাকা।

নবম স্ত্রীর মা বাদী হয়ে জামাতার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেছেন চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানায় ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!