পেটে ভাত নেই..সন্তানের দুধ কিনতে পারি না, কিসের লকডাউন?

করোনা এমনই এক জটিল ভাইরাস, যা মানব দেহে প্রবেশ করেই মূহুর্তেই সব কিছু লন্ডভন্ড করে দেয়। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কিংবা মরেও রেহায় নেই। জীবিতদের মধ্যে বিরাজ করে অজানা উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ও আতঙ্ক। দূর্যোগকালীন সময়ে সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সংস্থা, জনপ্রতিনিধিদের দিকে চাতকের মতো তাকিয়ে থাকেন গ্রামের হতদরিদ্র, দিনমজুর ও শ্রমিক শ্রেণির মানুষ। কিন্তু অপর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা কিংবা ১০ টাকা মূল্যের ৫ কেজি চাল কি আর সকল দিনমজুর অথবা শ্রমজীবিদের ভাগ্যে জুটে! চাকরীজীবি ও সমাজের উচ্চবিত্ত, জনপ্রতিনিধি, নেতাকর্মীর কথা বাদ দিলে এ দেশের হতদরিদ্র,দিনমজুর, শ্রমজীবি মানুষের কী অবস্থায় দিন কাটছে তা ভাবলে নয় স্ব-চোক্ষে দেখলে যে কারোর হৃদয়ে নাড়া দেবে।নারায়ণগঞ্জে বকেয়া বেতনের দাবিতে শহরের চাষাঢ়ায় এবং ত্রাণের দাবিতে ফতুল্লায় বিক্ষোভ করেছে কয়েকশ’ শ্রমজীবী মানুষ।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরের দিকে ত্রাণের দাবিতে ফতুল্লার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে এবং বকেয়া বেতনের দাবিতে একই দিন বিকেলে চাষাঢ়ায় বিক্ষোভ করেন তারা।

জানা গেছে, চলমান পরিস্থিতিতে কর্মহীন বেকার হয়ে পড়া পরিবারগুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য সঙ্কট। এমন পরিস্থিতিতে কেউ পেয়েছে কেউ পায়নি সরকার প্রেরিত ত্রাণ সামগ্রী। ফলে, ত্রাণ বঞ্চিত, খাদ্য সঙ্কটে থাকা ফতুল্লার লাল খাঁ, কুতুবপুর, তক্কারমাঠ, রামারবাগ এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ খান সাহেব ওসমান আলী ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনের রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করে। তারা সড়কে উপর এক ঘণ্টার মত অবস্থান করলে এই পথের সকল প্রকার যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে লিংক রোডে বিক্ষোভের খবর পেয়ে ছুটে আসে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। পরে বিক্ষুব্ধদেরকে ত্রাণের আশ্বাস দিয়ে বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন। এরপর এই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, কিছু নিম্ন আয়ের মানুষ ত্রাণের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করেছিল। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারদের সাথে কথা বলে, তাদের ত্রাণের আশ্বাস দেয়া হলে অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষুব্ধরা।

অপরদিকে বিকেলের দিকে ফতুল্লার গাবতলী টাগারপাড় ডিডিএল ফ্যাশন নামে একটি গার্মেন্টে কয়েকশ’ শ্রমিক চাষাঢ়া বঙ্গবন্ধু সড়কে এসে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় তারা রাস্তার উপর বসে পড়ে এবং যার চলাচলে বাধা প্রদান করে।

শ্রমিকদের দাবি, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বকেয়া বেতন এখনও দিচ্ছে না গার্মেন্টস মালিকপক্ষ। এরমধ্যে ফেব্রুয়ারি মাস শেষে গার্মেন্টসটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিন মাসের বেতন না পেয়ে বাসা ভাড়া দিতে না পারছেন না বলে বাড়িওয়ালাও ঘরে ঢুকতে দিচ্ছে না। সন্তানের জন্য দুধ কিনতে পারি না। মুদি দোকানের মাসিক বিল দিতে না পারায় তাদের গালাগাল শুনতে হচ্ছে। পেটে টান লাগলে লকডাউন কারফিউ কিছুই নয়।

অসহায় শ্রমিকরা বলেন, পেট মানে না আবার কিসের লকডাউন। বাধ্য হইয়া আমরা রাস্তায় নামছি। দরকার হইলে রাস্তায় জীবন দিয়ে দিব।

এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে বকেয়া বেতনের আশ্বাস প্রদান করলে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নিয়ে যার যার মত করে ফিরে গেছেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!