পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসবে যোগ দিয়ে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত


নিজস্ব প্রতিবেদক: পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই সাকরাইন উৎসবকে পৌষ সংক্রান্তি বা ঘুড়ি উৎসব বলেও বর্ণনা করা হয়।পৌষের শেষ দিন বাংলাদেশসহ পুরো উপমহাদেশেই পৌষসংক্রান্তি উৎসবের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর পুরান ঢাকায় এ উৎসবকে বলা হয় সাকরাইন। এবার ঢাকাবাসী সংগঠন ও বাংলাদেশ ঘুড়ি ফেডারেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ঘুড়ি উৎসব। ঘুড়ি ও বেলুন উড়িয়ে পুরান ঢাকার বকশি বাজারে একটি বহুতল ভবনের ছাদে আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) এ ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

ঘুড়ি উড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গানের সাথে শিশুদের নাচ, বীণ বাজানো ও লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুসঙ্গ উপস্থাপন করা হয়। উৎসবে যোগ দিয়ে বাঙালি সংস্কৃতির ভূয়সী প্রশংসা করেন মিলার। তিনি বলেন, গত বছরের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আমি খুব মজা পেয়েছিলাম। এ কারণে আমি অপেক্ষা করছিলাম এবছরের অনুষ্ঠানের। আজ এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবার্ট মিলারের ছেলে এন্ড্রিও। এন্ড্রিও খুব উৎসাহ নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ নাটাই হাতে ঘুড়ি উড়ান। পরে আয়োজকদের পক্ষ থেকে এন্ড্রিওকে কিছু ঘুড়ি উপহার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকাবাসী ও বাংলাদেশ ঘুড়ি ফেডারেশনের সভাপতি মো. শুকুর সালেক।

এ উপলক্ষে দিনমান ছাদে ছাদে চলে ঘুড়ি ওড়ানো। গানবাজনার অনুষ্ঠান। সন্ধ্যার পর সেই উৎসবই পরিণত হয় আলোর খেলায়। অন্যান্যবারের মতো আজও এ উৎসব উদ্‌যাপন করা হয়। সন্ধ্যার দিকে লাইটিং প্রদর্শনী, ফানুস উড়ানো ও কাওয়ালী গানের আসর বসে ছাদে।এই উৎসবকে মাথায় রেখে টানা এক সপ্তাহ পুরান ঢাকার রাস্তাগুলোর অধিকাংশ গলিতে আর খোলা ছাদে হয় সুতা মাঞ্জা দেওয়ার ধুম। রোদে সুতা শুকানোর কাজও চলে পুরোদমে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!