December 1, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

নোয়াখালীর বিবস্ত্র করা সেই নারীকে আগেও একাধিকবার ধর্ষণ করে দেলোয়ার

দেশজুড়ে বহুল আলোচিত নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা ওই নারীকে এক বছর আগে দুইবার ধর্ষণ করেছিলেন দেলোয়ার বাহিনীর দেলোয়ার। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মানবাধিকার কমিশন তদন্ত দলের কাছে এক জবানবন্দিতে এই কথা জানান ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ।

ওই গৃহবধূ তদন্ত দলকে আরও জানান, দেলোয়ারের ভয়ে তিনি একথা এর আগে এতদিন কাউকে বলেননি।

এর আগে গত রোববার ওই গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ পেলে তা ভাইরাল হয়ে যায়।

গৃহবধূর স্বজনরা জানায়, স্বামী অন্যত্র বিয়ে করায় বেগমগঞ্জে বাবার বাড়িতেই থাকতেন নির্যাতনের শিকার নারী। দীর্ঘদিন পর গত ২ সেপ্টেম্বর স্ত্রী’র সাথে দেখা করতে আসেন স্বামী। এসময় অনৈতিক কাজের অভিযোগ এনে গৃহবধূকে মারধর করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। বিবস্ত্র করে ধারণ করে ভিডিও। এমনকি এসময় ওই গৃহবধূর স্বামীকে বেঁধে রেখে আসামিরা তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় প্রধান আসামি বাদল ও দেলোয়ারসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পরে রাতে দেলোয়ারের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তার মাছের খামারে অভিযান চালিয়ে ৭টি তাজা ককটেল ও দুটি গুলি উদ্ধার করে র‌্যাব।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক বলেন, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে দেলোয়ার বাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
এদিকে, নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ দু’জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই ঘটনায় অভিযুক্ত দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেছে র‌্যাব। তার দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

মঙ্গলবার বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার একলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন ও মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ওরফে বাদলের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এদিন বিকেলে নোয়াখালীর ৩ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাশফিকুল হক রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে একজনের দু’দিন ও অন্যজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলার আসামি। আর নুর হোসেন এ মামলার পাশাপাশি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলারও আসামি।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি হারুনুর রশিদ বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে এ দুই আসামিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেগমগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মোস্তাক আহমেদ। প্রতিটি মামলায় তাদের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। বিকেলে শুনানি শেষে আদালত আসামি মোয়াজ্জেম হোসেনের দু’দিন ও নুর হোসেনের পৃথক দুটি মামলায় মোট সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার ৫ নম্বর আসামি সাজুকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বুধবার সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

এদিকে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশের ডিআইজি-চট্টগ্রাম বিভাগ মো. আনোয়ার হোসেন মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ মডেল থানায় আসেন। সেখান থেকে তিনি একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুরে নির্যাতিত নারীর গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি নির্যাতনের শিকার নারী, তার স্বামী, বাবা, পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন।

মো. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে পুলিশ ছাড় দেবে না। মামলায় অভিযুক্ত ছাড়াও ঘটনার তদন্তে যাদের নাম উঠে আসবে, তাদেরও মামলার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার একলাশপুরে বর্বরোচিত এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ৪ অক্টোবর ওই ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঘটনার ৩২ দিন পর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও পর্নোগ্রাফি আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়। দুই মামলায় আসামি করা হয়েছে ৯ জনকে।

error: Content is protected !!