November 28, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

নির্বাচন পূর্ব যুক্তরাষ্ট্র ভাবনা; ট্রাম্প ও অন্যান্য

সানজিদা ইসলাম পদ্মা

মীরা নায়ারের আ সুইট্যাবল বয় নামে একটা সিরিজ দেখছিলাম আজ। আপাতদৃষ্টিতে গল্পে নিজের ছোট কন্যার জন্য একজন যোগ্য ও আদর্শপাত্র খুঁজে বেড়ানো মা, ও এর সঙ্গে “সুইট্যাবল” আরো কিছু চরিত্র। কিন্তু এরমধ্যেই ১৯৪৭ সালে দেশভাগ পরবর্তী ভারতীয় বিভিন্ন রাজ্যের অদ্ভুত কিছু গল্প.. ধর্ম, বিদ্বেষ, হানাহানিসহ আরো কিছু অমোঘ সত্য উঠে এসেছে, যা সব বিভাজনের সঙ্গে বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে কম বেশি যোগ হয় বলেই আমরা জানি। এরমধ্যেই একটা শায়েরি বা কবিতা খুব মনে ধরলো। উর্দু বুঝিনা তেমন। তবে যেটুকু বুঝলাম তার মর্মার্থ অনেকটা এমন দাঁড়ায়।

No time, no lover, no friend in this town
Seal the lips of your wounds in this town..
Not everyone has room to raise their heads
So low has the sky fallen in this town..
Windows shattererd doors crumbling
Todays eyes hold the smoke of yesterday,
In this town…..

জানিনা কার লেখা। যারা এর উর্দু ফর্মটা জানেন হয়তো বুঝবেন। তবে কি জানেন, এই নাটকীয় কাব্যে সেই ১৯৪৭ পরবর্তী একটা শহরের বিষয়ে বলা হয়েছে হয়তো, যা সিরিজের গল্পের সঙ্গে মানানসই। সেসময়টা আমি দেখিনি। তবে গল্পটা দেখে বুঝলাম, এখনও আমাদের এই সময়ের শহরগুলোতে সবকিছু পরিবর্তনশীল হলেও, এই বিষয়গুলো আসলে কন্সন্ট্যান্ট- ই রয়ে গেছে। সত্যিকার আপন বলতে কেউ নেই, ক্ষতগুলো ভেতরে সিল করে দিয়ে ব্যাস চুপ থাকো। যদিও গতকালের ধোঁয়া চোখে তো লেগে থাকেই। কান্না তো আসেই। তবে তাতে এইসব শহরের কিছু যায় আসেনা।

এ পৃথিবীর প্রতিটা শহর, প্রতিটা রাজ্য এবং বৃহদার্থে প্রতিটা দেশ,নিজের বুকে এধরণের ক্ষত লুকিয়ে রাখে। তাতে নগরপিতা বা রাষ্ট্রের নায়ক-নায়িকাদের চিন্তা-চেতনায় নতুন কোন মাত্রা যোগহয়না। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে নতুন করে কৃষ্ণাঙ্গদের বিক্ষোভের কথাই ধরুন। এবছর এই শহরের মতো আরো কয়েক শহরে কয়জন কৃষ্ণাঙ্গ মরেছে তাতে কারো কিছু যায় আসেনি।এই, গণমাধ্যমে কিছু প্রতিবেদন। কয়েকটি শহরে লাগাতার বিক্ষোভ। পুলিশের ধস্তাধস্তি, আটক, ব্যাস। গল্পগুলো যেন প্যাকেজ ফর্মে আসে। সব প্যাকেজের স্টোরি ঘুরে ফিরে একই।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে চলমান নির্বাচনী বক্তব্যেওে এসব আন্দোলনের পক্ষে কোন প্রচার আমরা দেখিনা। বর্তমান ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনও কিন্তু বিক্ষোভকারীদেরই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে বলেছেন। অবাক হইনা, যখন মনে হয়, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে রেকর্ড ব্ল্যাককিলিং হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। বিভিন্ন স্কুলে বন্দুকধারীদের হামলায় ঘটেছে ম্যাসকিলিং।

ওবামার শেষ কার্যদিবসগুলোতে কোন এক মার্কিন গণমাধ্যমে দেয়া একটা সাক্ষাৎকার আমার এখনো মনে আছে। তিনি খুব আক্ষেপ করে বলেছিলেন, অনেকটা সাধারণ একজন মানুষের মতোৃ “মানুষ মনে করে অ্যামেরিকার মতো শক্তিশালী দেশের প্রেসিডেন্ট আমি।না জানি কতো ক্ষমতা আমার। অথচ মার্কিন রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ সিনেটের ভেটোর কারণে আমি শেষ দুইটা বছর নিজের একটা সিদ্ধান্তও বাস্তবায়ন করতে পারিনি।” বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের গান-লবির বিরুদ্ধে গিয়ে অস্ত্র আইন কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিতে না পারায়, সাবেক এই প্রেসিডেন্টের হতাশা ছিলো প্রবল। দু:খের বিষয়, তিনি রাষ্ট্রনেতা। সাধারণ মানুষের মতো রাজপথে বসে আন্দোলন করার সামর্থ তার ছিলোনা।

করেই বা কি লাভ? আন্দোলন কখনো রাষ্ট্রের মাথামহলের কাছে গ্রহণযোগ্য বিষয় নয়। তারা এর মধ্যে ক্ষীণ কোন যৌক্তিকতাও খুঁজতে নারাজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাই ধরুণ।তিনি এসব আন্দোলনকে পাত্তাই দিচ্ছেন না। যদিও আন্দোলনকারীদের ভয়ে হোয়াইট হাউসের ব্যাংকারে ট্রাম্পের লুকিয়ে থাকার গল্প বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসূত্রে প্রকাশিত হয়ে মানুষের হাসির খোরাক হয়েছে।

সিরিজ, শহরের দুঃখ ও আন্দোলন থেকে কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দিকে চলে গেলাম? উত্তর সহজ। গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে সাম্প্রতিক বিষয়ের আশপাশেই যে থাকতে হয়। আসছে নভেম্বরে এই দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তার আগে বারবার দানাবাধা বিক্ষোভের মতো বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী জো বাইডেন আর সবমিলে মার্কিন নির্বাচন এখন আলোচনার বিষয় তো বটেই।

এখন প্রশ্ন হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন বিষয়ে এদেশে বসে আমরা কেন ভাবি? সেখানে কে প্রেসিডেন্ট হলো তাতে আমাদের কি যায় আসে? সাদা চোখে দেখলে, কিছুই যায় আসেনা। শুধুই নভেম্বর এলে আমরা বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমকর্মীরা বেশ লাফালাফি করি।কে হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট? প্রার্থীদের প্রচারনা যুদ্ধের চেয়ে গণমাধ্যমের প্রচার-যুদ্ধও কিন্তু মুখ্য হয়ে ওঠে তখন।

তবে বিশ্ব নিয়ে যারা ভাবেন, এবং নিজেকে ও নিজের দেশকে এই বিশ্বের একটি অংশ হিসেবে দেখেন, তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই আগ্রহের বিষয়। দেশটি বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর একটি।জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের অন্যতম।৫০টি অঙ্গরাজ্য নিয়ে গঠিত দেশটির স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাও খুবই ইর্ষনীয় অন্যান্য দেশের কাছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত কয়েকটি বিতর্কিত বিল আইনে রূপ নিতে পারেনি শুধুমাত্র স্থানীয় আদালতগুলো সেগুলো আটকে দিয়েছিলো,তাই।

এই করোনাকালেও মাস্ক না পড়া, কেবল চীনের বিরুদ্ধে উল্টোপাল্টা মন্তব্য নিয়ে ব্যস্ত থাকাসহ সঠিকভাবে মহামারি সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার দায় বারবার ট্রাম্পের ওপর এসেছে সত্যি। তবে তিনি কোন অভিযোগে কান না দিয়ে,নিজের ভাষায়- “অ্যামেরিকাকে গ্রেট করার উদ্দেশ্যে” কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

২০১৭ সালের ২০ জানুযারি শপথ নেয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প,এই ক’বছরে এধরণের প্রচুর অভিযোগ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। আফগানিস্তানে’ মাদার বম্ব’ ফেলেছেন। ফিলিস্তিন-ইসরাইল দ্বন্দ্বে বারবার ইসরাইলের নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব করেছেন, ইরানের আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি থেকে একতরফা বেরিয়ে এসেছেন, জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে উইথড্র করেছেন, সবশেষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেয়া বরাদ্দও তুলে নিয়েছেন।

তবে ছোটখাটো শহরের ক্ষতের মতো এসব বৈশ্বিক টানাপোড়েনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আপামর জনগণের কোন ক্ষতি হয়নি। বরং ২১ শতকে রিপাবলিকান পার্টির যে নতুন ভাবধারা, ট্রাম্প একজন ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে সেই ভাবধারায় চলে দেশ শাসনে অনেকটাই সফল বলে মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ১৮৫৪ সালে জিওপি বা তৎকালীন রিপাবলিকান পার্টি প্রতিষ্ঠার সময় দলটির মূলনীতি ছিলো ক্ল্যাসিকাল লিবারেলিজম। সেসময়কার দাস প্রথা থেকে বেরিয়ে একটি অর্থনৈতিক রূপান্তরের পক্ষে কাজ করতে ঝান্ডা তুলেছিলো এই দলটি। তাদের নীতি ও আদর্শের সূত্র ধরেই সেসময়ের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের আমলে, ১৯৬৪ সালে দাসপ্রথা বিলোপ হয় যুক্তরাষ্ট্রে।

এই দলটি তাই সব মার্কিনিদের প্রাণের দল হয়ে ওঠে। ২১ শতকে অবশ্য লিবারেল হওয়ার চেয়ে অ্যামেরিকান কনসারভেটিজমকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে দলটি। এখন তাদের মূল-নীতিতে জায়গা নিয়েছে-কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা, মুক্ত বাণিজ্য ও স্বল্প শুল্ক -কর ও নিয়ন্ত্রিত অভিবাসন।এই বিষয়গুলোকেই প্রাধান্য দিয়েই মার্কিন মসনদে বসে শাসন কায়েম রেখেছেন ট্রাম্প। এবং এতেই মার্কিনিরা খুশি। বৈশ্বিক সমস্যায় কার কী এলো গেলো?

এবার জাতিসংঘের ৭৫তম বর্ষপূর্তিতে খোদ সংস্থার মহাপরিচালক বলেছেন বৈশ্বিক কোন সমস্যার কোন বৈশ্বিক সমাধান দিতে যে ঐকতানের প্রয়োজন তা হয়তো এখন তাদের নেই।যাহোক ট্রাম্প বৈশ্বিক সমস্যা, না রাষ্ট্রীয় সমাধান-সে বিচার জ্ঞানীরা করবে। তবে আপাতদৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পইপরবর্তী প্রেসিডেন্ট হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এবং মার্কিনীরাও তা-ই চায়।

১৯ তম রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন ধনকুবের ট্রাম্প যখন ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াই করছেন, তখন তার প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ছিলেন সাবেক ফার্স্টলেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। সাংবাকিতার খাতিরে আমি নিজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে হিলারি আর ট্রাম্পের টিভি বিতর্ক দেখেছি। আমার কানে তা প্রতিপক্ষ হিলারির প্রতি তীব্র কাদাছোঁড়াছুঁড়ি আর পাগলের প্রলাপের মতো শোনালেও ট্রাম্প তার প্রতিটা বক্তব্যে মার্কিন জনগণের এসময়কার চাহিদাগুলোকে উপজীব্য করতে পেরেছেন সন্দেহ নেই।

ভারতের পাঞ্জাবে বিভিন্ন গ্রামে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরা শুনেছি, রীতিমতো সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন করে নিজের ছেলের জন্য দেশী বউ নির্বাচিত করে নিয়ে যায়। অবাক হওয়ার কিছু নেই। বরং যারা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, একবার ভাবুন অ্যামেরিকা যাওয়ার স্বপ্ন তাদের কি ভয়ানকভাবে তাড়া করে। আমাদের দেশেও অনেক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে বা পড়া শেষ করে সেখানে গিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। বিভিন্ন দেশের এমন তরুণ স্বপ্নবাজদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ড্রিমার্স প্রজেক্ট বলে একটি সহজ অভিবাসন প্রক্রিয়া চালু ছিলো। ট্রাম্প ছুরি চালিয়েছেন তাতেও। ওই যে নিয়ন্ত্রিত অভিবাসন-নীতি। এতো প্রবাসী দিয়ে দেশ ভরার চেয়ে নিজেদের উন্নয়নে ব্যস্ত ট্রাম্পকেই তাই পছন্দ বেশিরভাগ মার্কিনির।

তার বিপরীতে, ১৮২৮ সালে গড়ে ওঠা মার্কিন প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মর্ডান লিবারেলিজম নীতি বর্তমান মার্কিনিদের টানছে কি? উল্টো তাদের কাছে ডেমোক্র্যাট মানেই অতিরিক্ত শুল্ক বা করারোপ, অতিরিক্ত অভিবাসীর বোঝা আর অস্ত্র আইন কঠোর করে মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া। এখন মার্কিন জনগণ যে আত্মতুষ্টি খোঁজেন সেই চেতনাকে পুঁজি করেই ট্রাম্প তার প্রথম শাসনামল ভালোই চালিয়ে নিয়েছেন।

ট্রাম্পের বর্তমান প্রতিপক্ষ-ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন তার কতোটা পেরেছেন বা পারবেন তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে বিশ্লেষকদের মনেও। যদিও জনমত জরিপ অনেকটাই এগিয়ে রাখছে বাইডেনকে। তবে এই এগিয়ে থাকাটা ২০১৬ সালের নির্বাচনে হিলারির এগিয়ে থাকার তুলনায় নস্যি। সেবছর আট নভেম্বর নির্বাচনের কয়েক ঘণ্টা আগের জনমত জরিপও হিলারি ক্লিনটনকে এমনিভাবে এগিয়ে রেখেছিলো। তার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো ৯৯ শতাংশের কিছু বেশি। যাকে মিথ্যা প্রমাণ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেবছর ক্ষমতায় এসেছেন।

রাশিয়ার যোগশাযশে প্রেসিডেন্ট হওয়া, বা তার শাসনামলে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একের পর এক উইকেট পতন, এমনকি প্রেসিডেন্টের অভিসংশিত হওয়ার সম্ভাবনাও মার্কিন জনগণের ট্রাম্প প্রীতির ওপর বিশেষ কোন প্রভাব ফেলেনি। শুনেছি ফ্লোরিডা যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি অঙ্গরাজ্য যেটিতে ভোটে যে জেতে, তারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার নজির আছে। একথা যুক্তরাষ্ট্রেই প্রচলিত। সেখানে এতোদিন জো বাইডেন এগিয়ে থাকলেও শোনা যাচ্ছে ট্রাম্প-বাইডেন ব্যবধান মাত্র ২ শতাংশে এসে ঠেকেছে। ফলে যেকোনদিন ট্রাম্পই এগিয়ে যেতে পারেন।কাজেই মোদ্দাকথা হলো, ২য় মেয়াদে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসতে পারেন,এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়ার কোন সুযোগ নেই।

তাই বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন, কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা, স্কুলে বন্দুক হামলা, বা করোনা মহামারিতে আক্রান্তের দিক দিয়ে সর্বোচ্চ হওয়ার রেকর্ড ছোঁয়ার মতো,বিভিন্ন ছোট ছোট দুঃখ বা ক্ষতগুলো নিজেদের ভেতরে সিলগালা কোরে, মানুষ এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার আনন্দ এসব ছোটখাটো দুঃখ ভুলিয়ে দিয়ে নতুন দিনের স্বপ্ন নিয়ে আসবে। পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের জন্য আসছে ৩রা নভেম্বর তাই বিশেষ তাৎপর্যময় একটি দিন, সন্দেহ নেই। সেদিনে এবারও ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ের হাসি হাসতেই পারেন। তবে ওই যেটা শুরুতেই বলছিলাম, বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বুকে চেপে রাখা কন্সট্যান্ট কিছু দুঃখের কথা। রাজনীতিতে তেমন চিরন্তন বলে কোনকিছুই কি আছে?

লেখক যুগ্ম বার্তা সম্পাদক, নিউজ টোয়েন্টিফোর।

error: Content is protected !!