যুক্তরাষ্ট্রে নারী ভোটাধিকার লাভের ১০০ বছর

বর্তমান আমেরিকান নারীর মত রাজনীতিতে এমন অকপট বিচরণ ছিল না ১০০ বছর আগে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৯তম সংশোধনী পাশের মাধ্যমে দেশটিতে নারীরা ভোট দেবার অধিকার পায়। ১৯১৯ সালের ৪ঠা জুন এই সংশোধনী কংগ্রেসে পাশ হলেও এ প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায় ১৯২০ সালের ১৮ই অগাস্ট। সংবিধানের এই ১৯তম সংশোধনীতে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক নারীর ভোট দেয়ার অধিকার আছে।

১৯২০ সালের ১৮ই অগাস্টের আগে যুক্তরাষ্ট্রে যারা জন্ম নিয়েছেন তারা এমন একটি দেশে বেড়ে উঠেছেন যে দেশটিতে নারীদের ভোট দেয়ার কোনও সুযোগ ছিল না।

এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৯তম সংশোধনী অনুমোদনের ১০০তম বার্ষিকী। এ সংশোধনীর মাধ্যমে আমেরিকার নারীরা, কার্যত শ্বেতাঙ্গ নারীরা ভোটদানের অধিকার লাভ করে। যুক্তরাষ্ট্রের সকল নারীর জন্য আইনগত ভোটাধিকার আদায়ে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের জন্য আরো কয়েক দশক সময় লাগলেও ভোটদানে সমানাধিকার অর্জনের ক্ষেত্রে ১৯তম সংশোধনী ছিলো একটি বড় অগ্রগতি।

শিকাগোর মেয়ে বিয়াট্রিস লাম্পকিন বলছেন “আমার মা ছিলেন সেসব নারীদের একজন যারা প্রথম তাদের চুল ববকাটে ছেঁটে ফেলেন এবং নিজেরা লং স্কার্ট ছেড়ে ছোট ছোট স্কার্ট পড়া শুরু করেন”।

“এটা পুরাটাই ছিল আমাদের অধিকারের বিষয়, যা ভোটাধিকারের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। নারীদের ভোটাধিকার অর্জনের যে দাবি ছিল, সেটা পাবার পর কতটা যে গর্ববোধ করেছিলাম এই বৃদ্ধ বয়সেও আমি সেটা অনুভব করি”-বলেন মিস লাম্পকিন।

যুক্তরাষ্ট্রের যেসব নারী ৯৬ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে নারী প্রেসিডেন্টের অপেক্ষায় আছেন

৮ই নভেম্বর ২০১৬ সালে লাখো আমেরিকান নারীর জন্য ছিল বিশেষ একটি দিন, কারণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এই দিনে তারা কোনও নারী প্রার্থীকে ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। যে সুযোগটি তাদের জীবনে আগে কখনও আসেনি।

সে বছর প্রথম বারের মত কোন নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্তিতা করেছিলেন। কে জানে হয়ত হিলারির পথ ধরেই চলে আসবে ভবিষ্যৎ আমেরিকার কোন শীর্ষ নেতা।

আর কারও কারও জন্য এ দিনটি ছিল ৯৬ বছরের অপেক্ষার অবসান।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!