নারী নেতৃত্ব আসতে পারে উত্তর কোরিয়ায়

হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচারের পর গুরুতর অসুস্থ উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। তার শারিরীক অবস্থা সংকাপন্ন এমন খবর ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। তবে এখবর সত্য কিনা তা জানা বেশ কঠিন। তাই বেশির ভাগ বিষয় জল্পনা থেকে উঠে আসে। এর মধ্যে গত জানুয়ারি থেকে করোনাভাইরাসের কারণে সীমান্ত লকডাউন করেছে উত্তর কোরিয়া। এরপর দেশটিতে কী হচ্ছে, তা জানা আরও বেশি দুরূহ হয়ে উঠেছে।

এমতাবস্থায় উনের অসুস্থুতার খবর প্রকাশের পর থেকেই তার পরবর্তী উত্তরাধিকারী নিয়ে তৈরি হয়েছে দেশটিতে কল্পনাজল্পনা।

কিমের পরে তার বোন বা ভাই রাজবংশের দায়িত্ব নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তাজার্তিক গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।

শুধুমাত্র কিমের বোন হিসেবে নয় উত্তর কোরিয়ার রাজনীতিতে এক সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে কিম ইয়ো জং। কোরিয়ার রুলিং ওয়ার্কার পার্টির একজন সিনিয়র মেম্বার তিনি। সেই সাথে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে ক্ষমতাশীল নারী হিসেবে পরিচিত কিম ইয়ো জং। রাজনীতিতে আগ্রহের জের ধরে গেল মাসে তিনি জানান, ভাইয়ের সঙ্গে এখন থেকে মূল সম্মেলনগুলোতে যোগ দেবেন তিনি।

জানা গেছে, কিম জং উনের ভাই কিম জং চলের রাজনীতিতে তেমন কোন আগ্রহ নেই। গানই তার জীবনের অন্যতম আগ্রহের জায়গা। সে হিসেবে কিমের পর রাজবংশের দায়িত্ব আসছে তার বোন কিম ইয়ো জং এর উপর।

তবে সবকিছু শেষে কিম জং উন কেমন আছেন, তিনি আসলেই কাজে ফিরতে পারবেন কিনা এই নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

গত মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ায় কিমবিরোধী পক্ষ দ্বারা পরিচালিত একটি ওয়েবসাইটে প্রথম কিমের অসুস্থতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র ‘ডেইলি এনকেকে’ জানায়, তারা বুঝতে পেরেছে গত আগস্ট মাস থেকে কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন কিম। এর মধ্যে বারবার মাউন্ট পেকটুতে সফর করায় তাঁর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। এই সূত্রের বরাত দিয়েই আন্তর্জাতিক মিডিয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

সংবাদ সংস্থাগুলো প্রথমে কেবল এই দাবিটুকু নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরের প্রতিবেদনে কেবল যোগ করা হয়, মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এরপর মার্কিন গণমাধ্যমে চাঞ্চল্যকর শিরোনাম হয়, ‘উত্তর কোরিয়ার নেতা হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচারের পরে গুরুতর অসুুস্থ’। তবে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয় যে এই তথ্য সঠিক নয়। এ ছাড়া চীনা গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে বার্তা সংস্থা রয়টার্সও এটি মিথ্যা বলে জানিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!