নারায়ণগঞ্জ মসজিদে বিস্ফোরণ: লিকেজের সন্ধানে মাটি খুঁড়ছে তিতাস

নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্যাসের লিকেজ অনুসন্ধানে মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে তিতাস গ্যাসের শ্রমিকেরা মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় অর্ধশত শ্রমিক শাবল, ছেনি, কোদালসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে সেখানে কাজ করছেন। মসজিদের পূর্ব দিকের কোণে, পূর্ব দিকের সামনের সড়ক এবং উত্তর দিকের দুটি স্থানে কংক্রিটের রাস্তা কেটে গ্যাসের পাইপলাইনের অবস্থান বের করার চেষ্টা করছেন তারা।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মফিজুল ইসলাম বলেন, মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছে। অর্ধশতাধিক শ্রমিক কাজ করছেন। তিতাসের মূল পাইপলাইনগুলো বের করার চেষ্টা চলছে। মূল পাইপলাইন বের করা হলে সেখান থেকে কোনো শাখা লাইন গেছে কিনা, সেটি জানা যাবে। মসজিদের নিচে পুরোনো কোনো পাইপলাইন আছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে, রোববার সকালে তিতাসের শ্রমিকেরা ঘটনাস্থলে মাটি খোঁড়ার জন্য গেলেও তাদের সেখান থেকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে পশ্চিম তল্লা ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।
পশ্চিম তল্লার ওই মসজিদে শুক্রবার এশার নামাজের সময় বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। সে সময় মসজিদে থাকা অর্ধশতাধিক মানুষের সবাই কমবেশি দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে মসজিদের ইমাম আব্দুল মালেকসহ ২৭ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন আরও ১১ জন।

সেই রাতে ওই মসজিদের ছয়টি এসি বিস্ফোরিত হওয়ার কথা বলা হলেও পরে দেখা যায়, বিস্ফোরণে এসিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেগুলোর কোনোটিই বিস্ফোরিত হয়নি।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই মসজিদের নিচ দিয়ে তিতাসের যে গ্যাসের পাইপ গেছে, সেখানে লিকেজ থেকে গ্যাস জমে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে তারা।এ ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জেলা প্রশাসন, তিতাস গ্যাস, ডিপিডিসি, সিটি করপোরেশন আলাদা পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৯৯৫ সালের দিকে এখানে টিনের একটি মসজিদ ছিল। ২০০০ সালের দিকে যখন ভবন নির্মাণ শুরু হয় তখন এর তদারকিতে ছিলেন জিয়াউল হক। তিনি বলছেন, এক ইঞ্চির গ্যাস লাইনের পরিবর্তে যখন তিন ইঞ্চির লাইন বসানো হয় তখন এক ইঞ্চির একটি লাইন মূল ভবনের নিচে ছিল।

তিতাস গ্যাস বলছে, গ্যাসের লিকেজ সম্পর্কে মসজিদ কমিটির কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে সোমবার জেলা প্রসাশনের তদন্ত কমিটির গণশুনানি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববি।

গত ক’দিনের মতো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দল। এমনটাই জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এর উপ পরিচালক নুর হাসান আহমেদ।এছাড়া মসজিদের আশপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!