December 1, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ : ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ মৃত্যু বেড়ে ২১

গত রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকায় একটি মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় ইমাম -মুয়াজ্জিনসহ ২১ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। নিহত ইমামের নাম আবদুল মালেক আনসারী। দগ্ধ হয়েছেন আরো অনেকে।

শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন সময় সংবাদকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।এর আগে, দুপুরে ওই মসজিদের মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন মারা যান। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।

শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) বিস্ফোরণের পর দগ্ধ ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। দগ্ধ বাকি ১৬ জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
ডা. সামন্তলাল সেন জানান, তারাও রয়েছেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।
মৃতরা হলেন- মসজিদের ইমাম আবদুল মালেক (৬০), মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৮), সাব্বির (২১), মোস্তফা কামাল (৩৪), রিফাত (১৮), জুবায়ের (১৮), কুদ্দুস ব্যাপারী (৭০), হুমায়ুন কবীর (৭০), ইব্রাহিম (৪৩), জুনায়েদ (১৭), জামাল (৪০), জুয়েল (০৭), রাশেদ (৩০), জয়নাল (৫০), মাইনউদ্দিন (১২), কাঞ্চন হাওলাদার (৫০), নয়ন (২৭), রাসেল (৩৪), বাহাউদ্দিন (৬২) ও নিজাম (৪০), নাদিম (৪৫)

ডাক্তাররা জানিয়েছেন, সবারই অবস্থা সংকটাপন্ন, কমবেশি সবারই পুড়েছে শ্বাসনালী।
এশার নামাজ চলার সময় গতকাল শুক্রবার রাতে পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এ বিস্ফোরণ ঘটে।

বিস্ফোরণের কারণ হিসেবে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, মসজিদের নিচে গ্যাসের লাইনে অসংখ্য লিকেজ থেকে গ্যাস বের হয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে মসজিদের ভেতর ছয়টি এসি দুমড়েমুচড়ে গেছে। ২৫টি সিলিং ফ্যানের পাখা বাঁকা হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, বিস্ফোরণের সময় শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করছিলেন। আহতদের প্রথমে শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহতদের ঢাকায় পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে নেওয়া হয়।

আহতদের কেউই শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন বার্ন ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন সর্বাত্মক চেষ্টা করার জন্য।

ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, আমাদের যা যা সুযোগ-সুবিধা আছে, সব ব্যবহার করে আমরা চেষ্টা করছি; বাকিটা ওপরওয়ালার ইচ্ছা। সবাইকে বলব, আহতদের জন্য দোয়া করবেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে দাফন সম্পন্ন করার জন্য ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার করে টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে, হাসপাতালে দগ্ধদের দেখতে এসে স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সব কিছুই তদন্ত করে দেখা হবে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পশ্চিম তল্লার বাইতুছ সালাত জামে মসজিদে শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) এশার নামাজের সময় হঠাৎ বিকট শব্দে মসজিদের কাছের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মারে বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের ভেতরে এসির বিস্ফোরণও ঘটে। মুহূর্তে মসজিদের ভেতরে আগুন ধরে যায়। আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে পড়লে মুসল্লিরা দগ্ধ হতে থাকেন।

আহতদের প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেলের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, তিতাসের গ্যাস কর্তৃপক্ষের গাফিলতি বিস্ফোরণের ঘটেছে বলে দাবি করছে স্থানীয়রা।

error: Content is protected !!