নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও অক্ষত পবিত্র কোরআন (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জের বায়তুস সালাত জামে মসজিদে পড়ে আছে জায়নামাজ, টুপি, তছবি, চশমা। তবে অক্ষত রয়েছে মসজিদের পবিত্র কোরআন শরীফগুলো। শুধু নেই মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মানুষগুলো।গ্যাস লাইনে লিকেজ ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে নিভে গেলো অনেক তাজা প্রাণ। সেইসঙ্গে ধ্বংস হয়েছে পরিবার-স্বজনদের স্বপ্ন।
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ৩৭ জনের মধ্যে শিশু ও মসজিদের মুয়াজ্জিনসহ এখন পর্যন্ত ১৬ জন মারা গেছেন। দগ্ধ বাকি ২১ জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার রাতের বিস্ফোরণের ভয়াবহতা। নারায়ণগঞ্জের বায়তুস সালাত মসজিদের কোণায় কোণায় এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আগুনের তা-বের চিহ্ন। কতটা ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণের সম্মুখীন হয়েছিলেন নামাজে থাকা মুসল্লিরা, বলে দিচ্ছে পুড়ে যাওয়া জায়নামাজ, ভাঙ্গা কাঁচ, মসজিদের ছিন্ন বিচ্ছিন্ন আসবাবপত্র। তবে ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও অক্ষত রয়ে গেছে পবিত্র কোরআন।

এলাকার লোকজনের দাবি গ্যাস লাইনে ত্রুটির কথা জানানো হয়েছিলো কর্তৃপক্ষকে। তারা ঠিক করতে ৫০ হাজার টাকা চেয়েছে। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে কোনো অভিযোগ না পাওয়ার দাবি করেছেন তিতাসের এমডি।

তিতাস গ্যাস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী মো. আল-মামুন জানান, সময় সংবাদের সরাসরি সম্প্রচার দেখেই মূলত মসজিদের ভেতর গ্যাস থাকতে পারে এমন ধারণা করছি আমরা। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি, তদন্ত হচ্ছে গ্যাস লাইনের লিকেজ ছিল কিনা।
তিনি আরো বলেন, তবে মসজিদ কমিটি থেকে লিকেজ সংস্কারের কোনো অভিযোগ পায়নি তিতাস কর্তৃপক্ষ। তদন্তে কারো অবহেলা গাফিলতি পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।অনুসন্ধানে আসেন ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি। আশা করেন দ্রুতই ঘটনার কারণ জানাতে পারবেন তারা।

ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক বলেন, এই বিস্ফোরণ এসি থেকে নয়। তখন বিদ্যুৎই ছিল না। সুতরাং বিদ্যৎ না থাকলে বিস্ফোরণ সম্ভব ছিল না এসি থেকে। আমরা দ্রুত কারণ বের করার চেষ্টা করছি।

এদিকে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃতদেহ আসার খবরে শোকের ছায়া নেমে আসে পশ্চিম তল্লা এলাকায়। একের পর এক খাটিয়া নিয়ে আসা হয় তল্লা মাঠে। কালো পতাকা টাঙ্গানো হয় এলাকাজুড়ে।

পঞ্চাশ হাজার টাকা না দেওয়ায় নারায়ণগঞ্জের তিতাস কর্মকর্তারা বাইতুল সালাত মসজিদের গ্যাস পাইপে লিকেজ সংস্কার করেননি বলে অভিযোগ করেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল গফুর।শনিবার সকালে (৫ সেপ্টেম্বর) তিতাস গ্যাসের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এলে তাদের সামনেই এ অভিযোগ করেন আবদুল গফুর।

তিনি বলেন, লিকেজের বিষয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু ৫০ হাজার টাকা না দেওয়ায় তারা এ সমস্যা সংস্কার করেননি। তবে মসজিদ কমিটি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেনি। মৌখিকভাবে নারায়ণগঞ্জের তিতাস গ্যাস অফিসের কর্মকর্তাদের জানানো হয়।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আল মামুন ঘটনাস্থলে তদন্ত করতে এসে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি বিষয়ে বলেন, তদন্ত কমিটি সার্বিক বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। যদি তিতাস কর্তৃপক্ষের ৫০ হাজার টাকা অভিযোগের বিষয়ে জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণ হয়। মসজিদের নিচে গ্যাসের লাইনে অসংখ্য লিকেজ থেকে গ্যাস বের হয়ে এ বিস্ফোরণ ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জের তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩৭ জন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। শনিবার দুপুর পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
( ভিডিও সময় টিভি থেকে নেওয়া)

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!