নাম পাল্টে ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী’ এখন ‘গ্লো অ্যান্ড লাভলী’

নারীদের ত্বকের রং ফর্সাকারী ক্রিম হিসেবে নেতিবাচক ধারণা প্রচার করে বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখে পড়া ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর নাম অবশেষে পরিবর্তন করেছে নিত্যব্যবহার্য ও খাদ্য পণ্য বিপণনকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার।ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর নতুন নাম গ্লো অ্যান্ড লাভলী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বহুজাতিক এই প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে পুরুষদের জন্য ব্র্যান্ডটির নতুন নাম গ্লো অ্যান্ড হ্যান্ডসাম করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ইউনিলিভারের ভারতীয় শাখা হিন্দুস্তান ইউনিলিভার নারীদের রঙ ফর্সাকারী এই ক্রিমের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করে। নতুন ব্র্যান্ড নামে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পণ্যগুলো বাজারে আসবে।

ত্বকের রং ফর্সাকারী ক্রিম- এমন ধারণার জন্য অনেক দিন থেকেই সমালোচিত হয়ে আসছিল ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্বব্যাপী বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠলে তার আঁচ লাগে ইউনিলিভারের গায়েও। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটি অবশেষে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী’র নাম পরিবর্তন করল।

কোম্পানিটি জানায়, পণ্যটির নামে ফর্সাকারী বা উজ্জ্বলকারী শব্দগুলোও আর উল্লেখ থাকবে না। সৌন্দর্যের একক আদর্শকে ব্র্যান্ডটি তুলে ধরবে। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও একই নীতি বাস্তবায়ন করবে বলে জানায়।

আরো সার্বজনীন ও ইতিবাচক সৌন্দর্যের লক্ষ্যে ব্র্যান্ডকে এগিয়ে নিতে সম্প্রতি ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী’ ব্র্যান্ডের নাম থেকে ’ফেয়ার’ শব্দটি সরিয়ে ফেলার ঘোষণা দেয় ইউনিলিভার। পণ্যটির নতুন এই নামকরণ তারই বাস্তব প্রতিফলন।

এর আগে ‘লিপটন চা’ এবং ‘ডাভ সাবান’ কর্তৃপক্ষও তাদের মার্কেটিং নীতি থেকে ফেয়ার, ফেয়ারনেস, হোয়াইট এবং হোয়াইটেনিং শব্দগুলো বাদ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়। গত সপ্তাহে ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম প্রস্তুতকারী আরেক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান লরিয়েল তাদের গার্নিয়ার ব্র্যান্ড থেকে ‘হোয়াইট’, ‘ফেয়ার’ জাতীয় শব্দ বাদ দেবে বলে জানায়। অন্যদিকে জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানি তাদের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!