দুর্ভিক্ষ হবে ৩৬ দেশে, দ্বিগুণ হবে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা

পাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের ৩৬টি দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সব কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ায় এ বছর ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জেনেভা থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাসের কারণে ১০টি দেশের ১০ লাখ মানুষ এখন অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। এতে আরও বলা হয়, করোনা সংকটের আগেই বিশ্বজুড়ে অন্তত ১৩ কোটি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। কিন্তু হঠাৎ করে মহামারীর কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আরও ১৩ কোটি মানুষ চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়তে পারে। এর জন্য চলমান পরিস্থিতিতে ডব্লিউএফপির নিজস্ব কর্মসূচিসহ খাদ্য সহায়তা চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এ কর্মসূচি বিশ্বের প্রায় ১০ কোটি মানুষের জীবনধারণের জন্য লাইফলাইন হিসেবে কাজ করে।

ডব্লিউএফপি নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বেসলি বলেন, করোনাভাইরাসের সবচেয়ে খারাপ প্রভাব হিসেবে বিশ্বের তিন ডজন দেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসতে পারে। ইতোমধ্যে ১০টি দেশে প্রায় ১ মিলিয়ন লোক অনাহারে দিন কাটানোর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। অনেক দেশে এই মানবিক সমস্যাটার কারণে নানাধরনের সহিংসতা, দ্বন্দ্ব ও বিবাদ তৈরি হতে পারে।

বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের চতুর্থ বাৎসরিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ইয়মেন, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, আফগানিস্তান, ভেনেজুয়েলা, ইথিওপিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, নাইজেরিয়া ও হাইতিতে খাদ্য সংকট রয়েছে। দক্ষিণ সুদানের ৬১ শতাংশ মানুষ গেল বছর খাদ্য সংকটের শিকার হয়েছিল। করোনাভাইরাসের মহামারি শুরু হওয়ার আগেই পূর্ব আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কিছু দেশ তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে পড়েছিল খরা ও পঙ্গপালের হামলায়।

চীনের উহান থেকে এই ভাইরাস এখন বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি। আর আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ লাখ। এ অবস্থায় করোনার প্রাদুর্ভাব কমাতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর সিএনএন ও গার্ডিয়ান।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.