November 24, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

দুই কোটি ৮৮ লাখ টাকায় বিক্রি হলো মহাত্মা গান্ধীর সেই চশমা

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের কিংবদন্তি নায়ক ও অহিংস আন্দোলনের পথিকৃৎ মহাত্মা গান্ধীর ব্যবহৃত এক জোড়া চশমা যুক্তরাজ্যের একটি নিলাম হাউসে। ইস্ট ব্রিস্টল নিলাম হাউসে স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া চশমার জোড়াটি বিক্রি হয়েছে দুই লাখ ৬০ হাজার পাউন্ডে।
বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় দুই কোটি ৮৮ লাখ টাকারও বেশি। নিলাম হাউসটি জানিয়েছে, কয়েকদিন আগে ওই চশমার জোড়াটি তাদের লেটারবক্সে ফেলে যায় এক ভদ্রলোক। তার চাচাকে গান্ধী নিজেই ওই চশমা জোড়াটি দিয়েছিলেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিলাম হাউসটি জানিয়েছে, অবিশ্বাস্য মূল্যে বিক্রি হয়েছে এই অবিশ্বাস্য সংগ্রহটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

মহাত্মা গান্ধী প্রায়ই নিজের অপ্রয়োজনীয় কিংবা অব্যবহৃত চশমা যাদের সেটি প্রয়োজন তাদের দিয়ে দিতেন। আবার তাকে বিভিন্ন সময়ে সাহায্য করা মানুষদেরও এগুলো দিয়ে দিতেন তিনি। শুক্রবার নিলামে ওঠা চশমা জোড়াটি তিনি ওই ভদ্রলোকের চাচাকে ১৯২০ বা ১৯৩০ এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকার সময়ে দিয়েছিলেন। ওই সময়ে তিনি ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে নিলাম হাউসটি।

কয়েকদিন আগে চশমা জোড়াটি ইস্ট ব্রিস্টল নিলাম হাউসের লেটারবক্সে ফেলে যান সেই ভদ্রলোক। পরে নিলাম কর্তৃপক্ষের তরফে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন সেটি ভালো না হলে তারা ফেলে দিতে পারেন। পরে তাকে জানানো হয় ১৫ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হতে পারে এটি। আর তা শুনেই হতবাক হয়ে পড়েন তিনি।

শুক্রবার দুই লাখ ৬০ হাজার পাউন্ডে চশমা জোড়াটি বিক্রি হওয়ার পর নিলাম হাউসের মালিক অ্যান্ড্রু স্টোয়ি বলেন, এটা বিস্ময়কর ফলাফল। এই চশমা জোড়াটি শুধু আমাদের নিলামের একটি রেকর্ডই নয়, বরং আন্তর্জাতিক ইতিহাস খুঁজে পাওয়ারও গুরুত্ব রয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের হ্যানহ্যামের ইস্ট ব্রিস্টল অকশনসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহাত্মা গান্ধীর এই চশমাটি পেয়ে তারা খুবই অবাক হয়েছিলেন। এই চশমা পাওয়ার গল্পটিও ছিল একদম অন্যরকম। অকশন হাউসের লেটারবক্সে খামে মুড়ে কেউ এই চশমাটি রেখে গিয়েছিলেন। শুরুতে বুঝতে না পারলেও, পরে যখন ওই সংস্থা এটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝতে পারে তখন কিছুটা অবাকই হয়েছিলেন অকশন হাউসের কর্তৃপক্ষ।

ইস্ট ব্রিস্টল অকশনসের সঙ্গে যুক্ত অ্যান্ডি স্টো এই প্রসঙ্গে জানান, এই চশমাটির ঐতিহাসিক মূল্য অপরিসীম। যিনি আমাদের এটা দিয়েছেন তার জিনিসটি ভালো লাগলেও, এর কোনও ঐতিহাসিক মূল্য আদৌ আছে কিনা সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত ছিলেন না।

তিনি আমাদের বলেছিলেন, যদি এর কোনও মূল্য না থাকে, তাহলে আমরা যেন চশমাটিকে ফেলে দিই। কিন্তু ভালোভাবে পরীক্ষা করে এর গুরুত্ব যখন ওই ব্যক্তিকে আমরা জানাই, তখন বোধহয় তার চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। এ সত্যিই এক অসাধারণ নিলামের গল্প! এমন জিনিসের নিলামের স্বপ্নই তো আমরা দেখে থাকি।

জানা গেছে, এই চশমাটি ইংল্যান্ডের এক বয়স্ক ব্যক্তির কাছ থেকে মিলেছে। তার বাবা জানিয়েছিলেন, এই চশমাটি তার কাকা ১৯১০ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের হয়ে কাজ করার সময় উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন।

‘এই ব্যক্তি নিশ্চয়ই ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় কাজ করতেন। সেখানেই তিনি এই চশমাটি উপহার পান। তবে আমার মনে এই চশমাটি তার প্রথম জীবনেরই চশমা।’ কিন্তু কীভাবে গান্ধীর ব্যবহৃত চশমা অন্য একজনের কাছে এলো? আসলে গান্ধীজি প্রায়ই তার পুরনো বা অপ্রয়োজনীয় চশমা সেই সব মানুষকে দান করতেন যাদের সেটির প্রয়োজন আছে অথবা কোনও না কোনও সময়ে গান্ধীকে সাহায্য করেছেন। সেভাবেই হয়তো ওই ব্যক্তিকেও চশমাটি দান করেছেন তিনি ।

error: Content is protected !!