তীর্থক্ষেত্রের পাশে সেনা মোতায়েন করলো চীন, ফের সংঘাতের আশঙ্কা

পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ ভারত-চীনের মধ্যে বৈরিতাও বেড়েই চলেছে। লাদাখের গালওয়ান ভ্যালিতে ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে দুপক্ষেই বেশ কয়েকজন সেনা হতাহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা যেন হঠাৎ বহুগুণ বেড়ে গেছে।পরে বেশ কয়েকবার বৈঠকে বসে দুই দেশ। এতে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও নতুন তথ্য দিল ভারতীয় গণমাধ্যনগুলো। তারা জানাচ্ছেন হিন্দুদের অন্যতম তীর্থক্ষেত্র মানস সরোবর ও কৈলাস পর্বতের কাছে সেনা মোতায়েন শুরু করল চীন।
ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে সেই দৃশ্য। তাতেই দেখা মিলেছে, গত এপ্রিল থেকে ওই এলাকায় যে নির্মাণকাজ শুরু করেছিল চিন, তা শেষ হয়েছে। প্রতিবছর বহু ভারতবাসী কৈলাস ও মানস সরোবরে তীর্থ করতে যান। সেই এলাকাই যেন এখন যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

এদিকে, লাদাখের ঘটনার পরই ভারত-নেপাল সীমান্তের লিপুলেখেও সেনা মোতায়েন শুরু করে চীন। এর আগে লিপুলেখ-সহ আরও সেখানকার বেশ কিছু এলাকা নেপালের ভূখন্ড দাবি করে নতুন মানচিত্রও প্রকাশ করেছিল নেপাল সরকার। সেখানেও চীন নির্মাণ কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

অন্যদিকে, দক্ষিণ চীন সাগরে এক বিতর্কিত দ্বীপে বোমারু বিমান এবং ফাইটার জেট মোতায়েন করেছে চীন। এ নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এতে ভারতের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ফ্যাম স্যান চাউও। খবর এক্সপ্রেস’র। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এক্সপ্রেসে ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লে থি থু হ্যাংয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চীনের এ ধরণের কার্যকলাপ ভিয়েতনামের সার্বভৌমত্বকে হুমকির সম্মুখীন করেছে। এ ধরনের কর্মকা- ওই অঞ্চলের শান্তিকে বিনষ্ট করছে।
ওই সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়, আগস্ট মাসের শুরুতে প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জের সর্ববৃহৎ দ্বীপ উডি আইল্যান্ডে এইচ-৬-জে বোমারু বিমান মোতায়েন করে চীন। তবে ওই এলাকায় মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারের তৎপরতায় বাধা দিতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেছে চীন সরকার।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!