November 25, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

ঢাকায় অসুস্থ স্বামীর জন্য রক্ত আনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার নার্স

রক্তশূন্যতাসহ গুরুতর অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান এক নার্স। সেখানে মেডিসিন বিভাগে তাকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, জরুরি ভিত্তিতে তাকে রক্ত দেওয়া প্রয়োজন। হাসপাতালের দোতলায় ব্লাড ব্যাংকের সামনে কয়েকজনকে বসে থাকতে দেখে তাদের কাছেই সাহায্য চান ওই নারী। তখন মনোয়ার হোসেন সজীব নামে এক ব্যক্তি তাকে ‘ও-পজেটিভ’ গ্রুপের রক্ত সংগ্রহ করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এর পরদিন কৌশলে মিরপুরের মধ্য মণিপুর এলাকার এক বাসায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে সজীব। গত ১৬ সেপ্টেম্বর এ ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য তাকে হুমকিও দেওয়া হয়। ভয়ে-লজ্জায় তা গোপন রেখেছিলেন তিনি। তবে গত বৃহস্পতিবার আবারও ধর্ষণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে তিনি স্বামীকে বিষয়টি জানান। একপর্যায়ে এই দম্পতি র‌্যাবের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন।
ভিকটিমের স্বামীর এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এ সময় ধর্ষণে সহযোগিতা করার অভিযোগে এক নারীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হল- মিরপুরের শ্যাওড়াপাড়ার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন সজল (৪৩) ও মিরপুরের মধ্যমনিপুরপাড়া মশনুআরা বেগম ওরফে শিল্পী (৪০)। সজলের মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় নিজেদের বাড়ি রয়েছে। তার মা গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি থাকার কারণে সজলকে হাসপাতালে থাকতে হয়। আর শিল্পী হলেন স্বামী পরিত্যক্তা। তিনি একাই ওই বাসায় থাকেন। টাকার বিনিময়ে সেখানে ঘণ্টাভিত্তিক রুম ভাড়া দেন শিল্পী। এই বাসায় সজল প্রায়ই মেয়ে নিয়ে যেত এবং শিল্পীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক ছিল বলে স্বীকার করেছে সজল।

শুক্রবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান র‌্যাব-২ এর সহকারী পুলিশ সুপার জাহিদ আহসান।

জাহিদ আহসান বলেন, রক্তশূন্যতাসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা নিয়ে সাতক্ষীরা থেকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হন। চিকিৎসার জন্য এবারই প্রথম তারা ঢাকায় এসেছেন। চিকিৎসকের পরামর্শে ওই দিনই রোগীর স্ত্রী রক্ত সংগ্রহ করতে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ব্ল্যাড ব্যাংকে যান। ওই সময় ব্ল্যাড ব্যাংকের সামনে ৩-৪ জনকে দেখে তার স্বামীর জন্য রক্ত দরকার বলে জানান ওই গৃহবধূ। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে (ভিকটিম) রক্ত সংগ্রহ করে দেবে বলে জানায়।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর ওই নারীকে (ভিকটিম) রক্ত সংগ্রহ করে দেয়ার নাম করে শিল্পীর বাসায় নিয়ে যায় সজল। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। পরে ঘটনা কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেয় সজল। হাসপাতালে ফিরে ভয়ে এ বিষয়ে চুপ থাকেন ওই গৃহবধূ।

তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সজল আবার ওই গৃহবধূর (ভিকটিম) মোবাইলে ফোন করলে তার স্বামী ধরেন এবং রক্ত সংগ্রহ হয়েছে বলে জানায় সজল। ফোন পেয়ে রক্ত আনার জন্য বললে গৃহবধূ (ভিকটিম) সজলের ব্যাপারে পুরো ঘটনা স্বামীর কাছে খুলে বলেন। পরে তারা র‌্যাব-২ অধিনায়কের কাছে এ ঘটনার লিখিত অভিযোগ দেন। র‌্যাব তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে শুক্রবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

error: Content is protected !!