December 3, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

ডা. সাবরীনার দুটি এনআইডিই ব্লকড দিলো ইসি

মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নমুনা পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরীনা আরিফের দুটি জাতীয় পরিচয়পত্রই (এনআইডি) ব্লক করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম অনলাইনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক থেকে জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরীনা আরিফের দ্বৈত ভোটার হওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়। তারপর আমরা তার দুটি পরিচয়পত্র যাচাইয়ের জন্য তদন্ত করি। তদন্ত করে দেখা গেছে, ডা. সাবরীনার দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। প্রথমটি করা হয়েছিল ২০০৯ সালে। যেটি মোহাম্মদপুর থানা নির্বাচন অফিস থেকে করা হয়। আর দ্বিতীয়টি গুলশান থানা নির্বাচন অফিস থেকে ২০১৬ সালে করা হয়।

মহাপরিচালক আরো বলেন, আইন অনুযায়ী প্রথমটি বৈধ, দ্বিতীয়টি অবৈধ। ফলে আমরা গুলশান থানা নির্বাচন অফিসকে চিঠি দিয়ে ডা. সাবরীনা আরিফের প্রতি জাতীয় নিবন্ধন আইনের ১৪ এবং ১৫ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। তার বিরুদ্ধে বিধিবর্হিভূতভাবে একাধিক আইডি সংগ্রহ করার অপরাধে মামলা করা হবে। একই সঙ্গে আরো বিস্তারিত তদন্তের স্বার্থে সাবরীনার দুটি পরিচয়পত্রই ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।’

মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, এই ব্যাপারে আমরা আরো বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য ছয় সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আমাদের কোনো নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তার গাফিলতি বা দোষ ছিল কি-না তাও যাচাই করা হবে। তেমনটি হয়ে থাকলে এটি দ-নীয় অপরাধ। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ এই ব্যাপারে আরো বিস্তারিত তদন্ত করছে।জাতীয় পরিচয়পত্র দুটিতে ভিন্ন তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এর একটিতে জন্মতারিখ ২ ডিসেম্বর ১৯৭৮। অপরটিতে ২ ডিসেম্বর ১৯৮৩। এক্ষেত্রে বয়স পাঁচ বছর কমানো হয়েছে। দুটি এনআইডিতে স্বামীর নামও ভিন্ন। একাধিক স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা ব্যবহার করে ভোটার হন সাবরীনা।

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবরীনার একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাঠায়। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ ঘটনা খতিয়ে দেখছে কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে।

করোনাভাইরাস পরীক্ষার টেস্ট না করেই রিপোর্ট ডেলিভারি দেয়ার অভিযোগে জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরীনা চৌধুরীকে ১২ জুলাই গ্রেফতার করা হয়। সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জেকেজির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী একজন নাগরিক দুই এলাকায় ভোটার হওয়া ও দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র বহন করা অপরাধ। ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত মিথ্যা তথ্য বা ঘোষণা দিলে ওই ব্যক্তির ৬ মাস কারাদ-, অনধিক দুই হাজার টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ের বিধান আছে। অসত্য তথ্য দেয়ায় নির্বাচন কমিশন চাইলে ডা. সাবরীনার বিরুদ্ধে মামলাও করার ক্ষমতা রাখে।

জানা গেছে, ডা. সাবরীনার দুটি জাতীয় পরিচয়পত্রের একটি হচ্ছে- ১৯৭৮২৬৯……০০৩৯ এবং অপরটি হচ্ছে- ১৯৮৩২৬৯……০১৩৬ (ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে সবকটি ডিজিট প্রকাশ করা হল না)। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় দ্বিতীয়বার ভোটার হন তিনি। প্রথম ভোটার হওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম ‘সাবরীনা শারমিন হোসেন’ ও দ্বিতীয় জাতীয় পরিচয়পত্রে ‘সাবরীনা শারমিন হুসেন’ উল্লেখ করেছেন। তবে দুটিতেই ইংরেজি নাম একই রয়েছে। একটিতে বাবার নাম ‘সৈয়দ মুশাররফ হোসেন’ ও মায়ের নাম ‘কিশোয়ার জেসমীন’ উল্লেখ করেন। অপরটিতে মা-বাবার নাম পরিবর্তন করে ‘সৈয়দ মুশাররফ হসেন’ ও ‘জেসমিন হুসেন’ দিয়েছেন। একটিতে স্বামীর নাম ‘আর, এইচ, হক ও অপরটিতে আরিফুল চৌধুরী উল্লেখ করেছেন।

জন্মসাল ১৯৮৩ সালের সপক্ষে একটি জন্মসনদ নম্বরও জমা দেন ডা. সাবরীনা। জন্মসনদ নম্বরটি হচ্ছে- ১৯৮৩২৬৯২৫৩….৪১৭। দুটি জাতীয় পরিচয়পত্রে স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানাও পরিবর্তন করেন ডা. সাবরীনা।

একটিতে মোহাম্মদপুরের পিসিকালচার হাউজিং সোসাইটির ঠিকানায় ভোটার হন। ঢাকা উত্তর সিটির ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের এ ঠিকানাটিকে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করেন জাতীয় পরিচয়পত্রে।

অপরটিতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাড্ডা এলাকার প্রগতি সরণির আনোয়ার ল্যান্ডমার্কের ঠিকানায় ভোটার হন। এ জাতীয় পরিচয়পত্রে এ ঠিকানাটিকে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উে ল্লখ করেন। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রে তার শনাক্তকরণের কোনো চিহ্ন উল্লেখ করেননি। অপরটিতে ‘চিবুকে তিলক’ শনাক্তকরণ চিহ্ন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, দুইবার ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে তথ্য জালিয়াতির আশ্রয় নেন ডা. সাবরীনা। দ্বিতীয়বার ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে যেসব তথ্য-উপাত্ত দিয়েছেন, তা সঠিক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

কিন্তু একবার ভোটার হওয়ার পর তা গোপন করে দ্বিতীয়বার ভোটার হওয়া অপরাধ। এছাড়া দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র করার সময়ে তার আঙুলের ছাপ নেয়া হয়েছে। তবুও সার্ভারে তার দ্বৈত ভোটার হওয়ার তথ্য ধরা না পড়ায় আমরা বিস্মিত।

আমাদের ধারণা, দ্বিতীয়বার তিনি আঙুল উল্টোভাবে ছাপ দিয়েছেন অথবা প্রথমবারের আঙুলের ছাপে অস্পষ্টতা রয়েছে। এ কারণে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে যাচাইয়ের সময়ে তার দ্বিতীয় জাতীয় পরিচয়পত্র ধরা পড়েনি। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে তার একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর পাঠানোর পর সার্ভারে চেক করলে তা ধরা পড়ে যায়।

error: Content is protected !!