বাংলাদেশটা কীভাবে চলছে বোঝার জন্য গত একমাসই যথেষ্ট

দেশটা কীভাবে চলছে সেটা বোঝার জন্য গত একমাস যথেষ্ট। জরুরী পরিস্থিতিতে কী করতে হয় সেসব বিষয়ে আমাদের সরকারি-বেসরকারি অনেক দপ্তরের নূন্যতম জ্ঞানও যে নেই সেটা কতোভাবে তারা প্রমাণ করবেন? গত এক মাসে কমনসেন্সহীন লোকদের নানা বিষয়ে লিখেছি। আজ একটু ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের কথা শোনেন। শোনেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মহান নির্দেশের কথা। সারা পৃথিবী, সারা দেশ যখন করোনার আতঙ্কে, সরকার যেখানে লকডাউন করেছে, একের পর এক ছুটি দিচ্ছে এনবিআর সেখানে বলছে, ১৫ এপ্রিলের মধ্যেই ভ্যাট দিতে হবে।

কিন্তু ভ্যাট দেওয়ার প্রক্রিয়াটা কী এতো সহজ? আচ্ছা এনবিআর কী জানে না, ভ্যাট জমা দেয়ার সাথে কতোগুলো প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ। ধরেন একজন বিজ্ঞাপন নির্মাতা। তিনি এখন ভ্যাট দেবেন। তাহলে যেই প্রতিষ্ঠানের হয়ে তিনি বিজ্ঞাপন বানিয়েছেন, বিল পেয়েছেন তাদের কাছে যেতে হবে। সেখান থেকে কাগজ আনতে হবে। এরপর তাকে পে অর্ডার করতে হবে ব্যাংক চালানের মাধ্যমে। এরপর সেই পে অর্ডারটি ব্যাংকের নির্ধারিত শাখায় জমা দিতে হবে। এরপর জমার নির্দিষ্ট চালানসহ ভ্যাট রিটার্নের ফরম পুরন করতে হবে। এরপর সেটা নির্ধারিত সার্কেলে জমা দিতে হবে। নিজ এলাকায় সার্কেল না থাকলে যেতে হবে আরেক জায়গায়।

আচ্ছা এনবিআর কী জানে না সারাদেশে লকডাউন চলছে? তারা কী জানে না গণপরিবন বন্ধ? তারা কী জানে না করোনার সময় বের হওয়া যায় না। নাকি এনবিআর চাইছে এই সময় ছোট বড় ব্যবসায়ীরা সব ঘর থেকে বেরিয়ে আসুক। জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়ুক। করোনা ছড়াক।

কী অবাক কাণ্ড দেখেন! এখন সরকারি ছুটি। পহেলা বৈশাখেরও বন্ধ। দেশে গণপরিবহন বন্ধ। কিন্তু এনবিআর শুধুমাত্র ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের জন্য সরকারি ছুটি থাকা থাকাকালে ১২ থেকে ১৫ এপ্রিল তাদের সংশ্লিষ্ট অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আচ্ছা বুঝলাম চাকুরি বাঁচাতে আপনাদের কর্মকর্তারা না হয় আসবেন কিন্তু সাধারণ মানুষ কীভাবে আসবে?

আরও মজার তথ্য শুনবেন? নির্দিষ্ট মাসে জমা না দিলে দশ হাজার টাকা জরিমানা। এনবিআর নাকি বলেছে, এই মাসে জমা না দিলে আগামী মাসে দশ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে? এগুলো কোন কথা? আচ্ছা এদের কী কমন সেন্স নেই। নাকি মানুষকে কষ্ট দিতেই হবে।

এমন না এনবিআর কিছু জানে না। খবরে দেখলাম, ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। তাতে বলা হয়েছে, ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয়া সম্ভব হবে না। তাই জরিমানা ব্যতীত ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ করা হলো। তবে চিঠি দেয়ার পরেও ভ্যাটের সার্কেল অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে এনবিআর। হায়রে খোদা!

এনবিআরেরর নীতি নির্ধারকদের বলবো, স্যারেরা এই মুহুর্তে মানুষের করোনা থেকে বাঁচাটা জরুরী। আপনাদের এপ্রিল মাসের ভ্যাট আগামী মে মাসে দিলে পৃথিবীটা ধ্বংস হয়ে যাবে না। স্যারের শোনেন, বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল দেরিতে নেয়া হচ্ছে। কাজেই এপ্রিলের ভ্যাট আগামী মে মাসে দিলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে না। বরং আপনারা এই সময় লোকজনকে ঘর থেকে বের করলে করোনায় আক্রান্ত হবে কিছু মানুষ। ক্ষতি হবে মানুষের। দেশের। কাজেই দয়া করে দেশের সর্বনাশ ডেকে আনবেন না। নাকি আপনারা ভাবছেন এই বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীকে বলতে হবে।

হ্যা, স্যারেরা এই কথা ঠিক, ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। হ্যা স্যার আপনারা আইন কানুন খুব মানেন খুব সৎ আপনারা সেটা আমরা জানি। কিন্তু স্যার মানুষের জীবন সবার আগে। আপনার আইনটা রেখে দিন এই মাসের জন্য। মানুষ বাঁচান। আর দোয়া করি আল্লাহ আপনাদের সুমতি দিক।

লেখক: শরিফুল হাসান, ফ্রিল্যান্স কলামিস্ট

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!