জার্মানিতে স্বাভাবিক হচ্ছে জীবনযাত্রা, খুলছে দোকানপাট

মহামারী করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে প্রায় এক মাস ধরে কড়াকড়ির পর এ ভাইরাসে সংক্রমণের হার কমে এমেছে জার্মানিতে। কমার ফলে জার্মানিতে কিছু বিধিনিয়ম শিথিল করা হচ্ছে। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে মানুষের মধ্যে ব্যবধান বজায় রেখেই একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংক্রমণের হার ধারাবাহিকভাবে কমে চলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনীতিকরা।

তাই সোমবার থেকে সতর্কতা বজায় রেখে নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থনীতির অচলাবস্থা কাটাতে এই পদক্ষেপ সফল হলেও সংক্রমণের হার মারাত্মক বেড়ে গেলে সরকারকে পিছিয়ে আসতে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সোমবার পর্যন্ত জার্মানিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৩ জন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৬৪২ জনের।

সোমবার জার্মানিতে ৮০০ বর্গ মিটার আয়তনের চেয়ে ছোট দোকানপাট খোলা হচ্ছে। তবে গাড়ি, সাইকেল ও বইয়ের দোকানের ক্ষেত্রে আয়তন সংক্রান্ত কোনও শর্ত আরোপ করা হচ্ছে না। এই সব দোকানে প্রবেশ করতে হলে কিছু কড়া নিয়ম মেনে চলতে হবে।

ফেডারেল সরকার গোটা দেশের জন্য কিছু সাধারণ সিদ্ধান্ত নিলেও রাজ্য স্তরে পদক্ষেপের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকছে। যেমন, কিছু রাজ্যে চিড়িয়াখানাও খোলা হচ্ছে। শুধু স্যাক্সনি রাজ্যে উপাসনার উপর নিষেধাজ্ঞা অন্য রাজ্যের তুলনায় আগেই তুলে নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতির স্বার্থে কয়েকটি রাজ্যে নির্দিষ্ট কিছু ক্লাসে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারবে। বাকি রাজ্যগুলিতে মে মাসে এমন কিছু ক্লাস খোলা হবে। এখনো কিন্ডারগার্টেন খোলার সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলেও দেশজুড়ে বিতর্কের পর সোমবার থেকে বিশেষজ্ঞদের এক দল এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু করবে। ধাপে ধাপে কিন্ডারগার্টেন খোলার পরিকল্পনার ঝুঁকি খতিয়ে দেখবেন তারা।

জার্মানির অর্থনীতি বিষয়কমন্ত্রী পেটার আল্টমায়ার করোনা সংকটের মাঝে রাজ্যগুলির মধ্যে আরো ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, একদল মুরগিছানার মতো কড়াকড়ি আরেও বাড়াতে অথবা শিথিল করতে পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামা ঠিক নয়। তার মতে, এই মুহূর্তে সংযত থাকলে দ্বিতীয় দফার লকডাউন এড়ানো সম্ভব হবে। সে কারণে ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের যৌথ পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।

প্রকাশ্যে মাস্ক পরার প্রশ্নে জার্মানিতে এখনও কোনও ঐকমত্য দেখা যাচ্ছে না। শুধু স্যাক্সনি রাজ্যে সোমবার থেকে দোকানবাজার ও ট্রামে-বাসে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ভলফসবুর্গ ও ইয়েনা শহরেও একই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। তবে জার্মানির ফেডারেল সরকার এখনও পর্যন্ত দেশজুড়ে মাস্ক বাধ্যতামূলক করার কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। শুধু প্রকাশ্যে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও কোনও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেননি। তিনি মনে করছেন, এই সাফল্য অত্যন্ত নাজুক।

নর্থরাইন ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আরমিন লাশেট বলেন, একেবারে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে আরও অনেক সময় লাগবে। এমনকি কিছু কড়াকড়ি ২০২১ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে বলেও তিনি মনে করেন। সূত্র: ডয়চে ভেলে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.