জামায়াত বহিষ্কৃতদের নিয়ে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নাম ‘এ বি পার্টি’

বাংলাদেশে জামায়াত থেকে বেরিয়ে আসা ও বহিষ্কৃতদের সমন্বয়ে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। নতুন এ দলটির নাম ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ (এ বি পার্টি)। শনিবার (২ মে) দুপুরে বিজয়নগরে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন রাজনৈতিক দলের নাম ঘোষণা করা হয়।

সাবেক সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনিবআর) সাবেক চেয়ারম্যান এএফএম সোলাইমান চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুকে সদস্য সচিব করে ২২৩ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিস্কৃত দলটির মজলিসে শুরার সাবেক সদস্য ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয় গত বছরের ২৭ এপ্রিল।

এই সংগঠনের পক্ষ থেকে কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
নতুন দলটির নেতারা বলছেন, কোনও তত্ত্ব বা আদর্শের চর্চা করা হবে না। কোনও ধর্মভিত্তিক দল করা হবে না। মানুষের প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করা হবে। এ প্রেক্ষাপটে গত একবছর ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় সেমিনার, মতবিনিময়সভার মাধ্যমে দল গোছানোর কাজটি করেন জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতারা।
সংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার-এই তিন মূলনীতির ভিত্তিতে জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ পুনর্গঠনে নতুন রাজনৈতিক দল ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’র (এবি পার্টি) আত্মপ্রকাশ। তিনি বলেন, অকার্যকর রাষ্ট্রের পুনর্গঠনের জন্যই দরকার নতুন রাজনীতি।

রাষ্ট্রের সর্বস্তরে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, শৃঙ্খলা ও ভারসাম্য ভেঙে পড়েছে দাবি করে এবি পার্টির সদস্যসচিব বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থসুরক্ষা ও নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা এবং সাংবিধানিক দায়-দায়িত্ব পালনের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ। একই সঙ্গে সামাজিক প্রতিষ্ঠান, নাগরিক উদ্যোগ, সংবাদমাধ্যম কেউই আর নির্বিঘ্নে নির্ভয়ে ক্ষমতাসীনদের অনিয়মের সমালোচনা, সত্য প্রকাশ ও জবাবদিহিতার দাবিতে সোচ্চার হতে পারছে না। যেকোনো অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিকার চাওয়া এবং পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগ। স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার উগ্র বাসনায় সংবিধান পরিবর্তন করে বিচার বিভাগকে নির্বাহী কর্তৃত্বের অধীনস্থ করার মরিয়া চেষ্টা আমরা দেখছি। শুধুমাত্র তাতে দ্বিমত পোষণ করায় অনেক অবিচার ও অনিয়মের সহযোগী হয়েও সাবেক প্রধান বিচারপতি অপমান-অপদস্থ হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। বিচারিক স্বাধীনতার ভিত্তিকে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। ক্ষমতার পৃথকীকরণসহ যা কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা তৈরি করা হয়েছিল, তার প্রায় সবগুলোই আজ অকার্যকর।’

সোলাইমান চৌধুরী চাকরি জীবনে রাষ্ট্রপতির সচিব, এনবিআরের চেয়ারম্যানসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। চাকরি থেকে অবসরের পর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য নির্বাচিত হন। এই দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় গত বছর ৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে ‘জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ এর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

এরপর জামায়াতের শীর্ষ পর্যায় থেকে তার সমালোচনা করা হয়। এ অবস্থায় গত বছরের ১০ ডিসেম্বর তিনি জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেন এবং জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পৃক্ত হন।

এর আগে একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জামায়াতের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে দলটির কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক গত বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করেন। তিনি বিদেশে থেকেই পদত্যাগ করেন।

ঠিক একই সময়ে দলটির আরেক কেন্দ্রীয় নেতা মজলিসে শুরা সদস্য ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জুকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা এরই মধ্যে জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেন। মাঠ পর্যায়ে কিছু কিছু নেতাকে দল থেকে বহিস্কারও করা হয়। পদত্যাগী ও বহিস্কৃতরা ‘জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ সঙ্গে যুক্ত হন। তাদের সমন্বয়েই নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আপাতত দলটির উপদেষ্টা পরিষদে থেকে কাজ করবেন বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!