November 28, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

ছেলের ইচ্ছাপূরণে মেসির বাবা, রাতের বৈঠকেই ফয়সালা!

গত সপ্তাহেই লিওনেল মেসি বার্সেলোনা ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন।এরপর অনেক জল গড়িয়েছে।কিন্তু এতদিন এ নিয়ে চুপ ছিলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। অবশেষে ছেলের ইচ্ছাপূরণ করতে আসরে নামলেন তার বাবা ও মুখপাত্র হোর্হে মেসি।

বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) মেসির বার্সা ছাড়ার ব্যাপারে আলোচনা করতে ক্যাম্প ন্যুয়ে হাজির হয়েছেন হোর্হে মেসি। এদিন বার্সা প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া বার্তোমেউর সঙ্গে ক্লাব অধিনায়কের চুক্তি সংক্রান্ত ঝামেলা নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। তবে ‘এল প্রাত এয়ারপোর্ট’-এ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেসির বাবা বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। ’
মেসি এবং বার্সার মধ্যকার অবস্থা এখন ঠিক সেই শিশুসুলভ আচরণই যেন। শুধু কথা বলাই নয়, দুজনের মুখ দেখাদেখি বন্ধ।

এই জটিলতা নিরসনে মুরব্বি হয়ে বার্সেলোনায় এসেছেন মেসির বাবা জর্জ মেসি। মূলত মেসির ফুটবল এজেন্টের দায়িত্বও পালন করেন জর্জ। রোজারিও থেকে জর্জ বার্সায় প্রাইভেট জেটে উড়ে এসেছেন। বুধবার রাতেই বসবেন বার্সেলোনার সঙ্গে আলোচনায়।

এই বৈঠকের এজেন্ডা একটাই- মেসি। এখানেই সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে মেসি-বার্সা ‘ম্যাচের’!

দুই পক্ষের অবস্থান খুবই পরিষ্কার। মেসি চাইছেন বার্সা ছাড়তে। পুরোদস্তুর ফ্রি ট্রান্সফারেই বার্সা ছাড়তে পারবেন বলে আশায় আছেন মেসি। কারণ আইন নাকি তার পক্ষে।

আর বার্সা চাইছে মেসি যেন মন বদলে থেকে যান কাতালান ক্লাবে। সেই সঙ্গে বার্সার জোর বিশ্বাস মেসির রিলিজ ক্লজের ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ডের শর্তটা তাদের পক্ষেই আছে।

রাতের এই বৈঠকে আরেকটি হালকা আশা নিয়ে বসে আছেন বার্সার প্রেসিডেন্ট জোসেফ মারিয়া বার্তোমেউ। মেসিকে এখনো বুঝিয়ে সুঝিয়ে নেওয়া যাবে- এই স্বপ্নও আঁকছেন তিনি। মেসির বাবা জর্জের সঙ্গে বৈঠকে সেই সমঝোতার প্রস্তাবের ছক কষছেন বার্তোমেউ। মেসি যদি রাজি থাকেন, তাহলে বার্সার সঙ্গে বর্ধিত চুক্তিতে তাকে বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার মুলোও ঝোলানো হবে।

সন্দেহ নেই মেসিকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে-পড়িয়ে বার্সায় রেখে দিতে পারলে মারিয়া বার্তোমেউ ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের পেছনের সব দুর্নাম এক ঝটকায় মুছে ফেলতে পারবেন!
প্রশ্ন হলো ড্রিবলিং মাস্টার মেসিকে কি এভাবে ডজ দিতে পারবেন বার্তোমেউ? নাকি মেসির সঙ্গে সঙ্গে তাকেও বার্সা ছাড়তে হবে।

কারণ মেসি বিতর্কে জড়িয়ে এরই মধ্যে হলুদ কার্ড একবার দেখেছেন বার্তোমেউ। মেসি বার্সা ছাড়লে বার্তোমেউ দ্বিতীয় দফা হলুদ কার্ড পাবেন।এক ম্যাচে দুই হলুদ কার্ড মানেই মার্চিং অর্ডার! এদিকে গত সোমবার নতুন কোচ রোনাল্ড কোম্যানের অধীনে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির শুরুর প্রথম দিনে হাজির হননি মেসি। এর আগের দিন বার্সার পূর্ব নির্ধারিত করোনা ভাইরাস টেস্টো করাননি তিনি। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্তে স্থির আছেন তিনি।

মেসির দাবি, বার্সার সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, শেষ বছরে কোনো রিলিজ ক্লজের ব্যাপার নেই। অর্থাৎ ফ্রিতেই যেতে পারবেন তিনি। কিন্তু বার্সা ও লা লিগা কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, মেসিকে কিনতে আগ্রহী ক্লাবকে ৭০০ মিলিয়ন ইউরো রিলিজ ক্লজ পরিশোধ করতে হবে।

বার্সা ও লা লিগার যুক্তি হলো, গত মৌসুম শেষ হওয়ার ২০ দিন আগে অর্থাৎ ১০ জুনের মধ্যে ক্লাব ছাড়ার কথা জানালে রিলিজ ক্লজ দিতে হতো না। কিন্তু মেসি যেহেতু ওই তারিখের আগে জানাননি তাই চুক্তিতে ক্লজ চালু হয়ে গেছে, যার মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের জুনে।

মেসির আইনজীবীদের যুক্তি, যেহেতু করোনা মহামারির কারণে এবার মৌসুম দেরিতে শেষ হয়েছে, ৭০০ মিলিয়ন রিলিজ ক্লজের ব্যাপারটি প্রযোজ্য নয়। কারণ মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই ক্লাব ছাড়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। বিষয়টা নিয়ে এর আগে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন মেসি। কিন্তু বোর্ড জানিয়ে দিয়েছিল, নতুন চুক্তি ছাড়া আর কোনো বিষয়ে কথা বলবে না তারা। এখন দেখার বিষয়, মেসির বাবা বিষয়টার সুরাহা করতে পারেন কি না।

এদিকে মেসিকে কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। শোনা যাচ্ছে, মেসিকে ৫ বছর মেয়াদী চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে ইংলিশ জায়ান্টরা। ‘ইএসপিএন’ দাবি করেছে, মেসির বিনিময়ে ১৫০ মিলিয়ন ইউরো দিতে চায় সিটিজেনরা।

error: Content is protected !!