‘চুরি করতে গিয়েই ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলা’

গত বুধবার মধ্যরাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় মোট তিনজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে র‌্যাব। র‌্যাবের দাবি, আটককৃতদের মধ্যে আসাদুল নামের একজন জানিয়েছেন, ‘চুরি করার জন্য’ তারা ইউএনওর বাসায় ঢুকেছিলেন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর)সন্ধ্যা ৭টায় রংপুর নগরে র‌্যাব-১৩ এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলেনের আয়োজন করা হয়। সেখানে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১৩ এর অধিনায়ক কমান্ডার রেজা আহমেদ ফেরদৌস।

আটক তিনজন হলেন ঘোড়াঘাট উপজেলার সাগরপুর এলাকার আসাদুল হক (৩৫), চক বাবুনিয়া বিশ্বনাথপুরের মো. নবীরুল ইসলাম (৩৪) ও সান্টু কুমার বিশ্বাস (২৮)।

এ ঘটনায় আটক ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেনকে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

আজ শুক্রবার ঘোড়াঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন ওয়াহিদার ভাই শেখ ফরিদ। এ মামলাতে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের হাকিমপুর থানার বাংলা হিলি এলাকা থেকে ঘটনার ‘মূল আসামি’ আসাদুলকে গ্রেপ্তার করে বলে জানান রেজা আহমেদ ফেরদৌস।

রেজা আহমেদ ফেরদৌস সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আসাদুল ‘নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার’’ করেন এবং নবীরুল ও সান্টু তার সঙ্গে ছিল বলে জানান। এরপর শুক্রবার র‌্যাবের অভিযানে নবীরুল ও সান্টুও ধরা পড়েন।’

তিনি বলেন, ‘আসাদুলের দাবি অনুযায়ী, এটা চুরির অভিপ্রায় থেকে সংঘটিত একটি ঘটনা। তবে প্রকৃত মোটিভ বা প্রকৃত উদ্দেশ্য বের করার জন্য আরও সময়সাপেক্ষ তদন্ত করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আসাদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি করে র‌্যাব একটি লাল টি-শার্ট উদ্ধার করেছে, যেটি সিসিটিভির ভিডিওতে হামলাকারীদের একজনের গায়ে দেখা গিয়েছিল। আসাদুল স্বীকার করেছেন, ওই টি-শার্ট তার।

রেজা আহমেদ ফেরদৌস বলেন, ‘আসাদুল ও নবীরুলের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রায়ছে। এর মধ্যে নবিরুলের বিরুদ্ধে আগের একটি চুরির মামলাও রয়েছে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আসাদুলের দাবি অনুযায়ী, ইউএনওর বাসায় ঢোকার মূল পরিকল্পনা ছিল নবীরুলের। সে (নবীরুল) বলেছে, ইউএনও মহোদয়ের শয়নকক্ষ ও তার বাসগৃহ থেকে অর্থ সম্পদ লুট করা এবং চুরি করাই ছিল তাদের অভিপ্রায়। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও তদন্ত প্রয়োজন আছে।’

চুরির উদ্দেশ্যে হামলা হলে কী কী মালামাল জব্দ করেছে, প্রশ্ন করা হলে র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, তারা এ ঘটনার ছায়া তদন্ত করছেন। লাল রঙের একটি টি-শার্ট ছাড়া আর কিছু উদ্ধার বা জব্দ করার সঙ্গে র‌্যাব ছিল না। মামলার আলামত জব্দ করেছে সিআইডি, তারাই সেগুলো আদালতে তুলবে।

যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীরকে ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে’ তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জাহাঙ্গীরকে র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে এসেছিলেন। কথা বলে ওই ঘটনায় তার ‘সম্পৃক্ততা না পাওয়ায়’ তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার মধ্যরাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা উপজেলা পরিষদের নৈশ্য প্রহরীকে বেঁধে রেখে দুর্বৃত্তরা পিপিই ও মাস্ক পরে বাসায় প্রবেশ করে ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় ও শরীরে বেধম আঘাত করে। এ সময় বাসায় থাকা তার বাবা শেখ ওমর আলী মেয়েকে বাঁচাতে এলে তাকেও সন্ত্রাসীরা গুরুতর আঘাত করে। দুর্ঘটনার পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর অবস্থায় ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা শেখ ওমর আলীকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ইউএনও ওয়াহিদা খানমের স্বামী রংপুর পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেজবাহুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, গতকাল জনপ্রশাসন মন্ত্রাণালয়ের ব্যবস্থাপনায় তার স্ত্রী ওয়াহিদা খানমকে বিমানবাহিনীর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল রাতেই তার মাথার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।এখন অনেকটা আশঙ্কা মুক্ত তিনি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!