চীনে ফের করোনার হানা, লকডাউন হারবিন শহর

মহামারি করোনাভাইরাসের উৎপত্তি চীনের উহান থেকে। বিশ্বের এ পর্যন্ত ২১০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস। প্রায় চার মাসের লড়াইয়ে করোনাকে নিয়ন্ত্রণে আনে চীন। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় ফের করোনা সংক্রমণ শুরু হয়েছে দেশটিতে। করোনার সংক্রমণ হওয়ার পর উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় হারবিন শহর লকডাউন করে দেয়া হয়েছে।

শহরটিতে প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাস। শহরের কর্তৃপক্ষ বলছে, স্থানীয়ভাবে নয় বরং বাইরে থেকে আসা ব্যক্তির মাধ্যমে নতুন করে সেখানে করোনার সংক্রমণ হয়েছে।

হারবিন শহরটি হেইলংজিয়াং প্রদেশের রাজধানী। শহরটিতে প্রায় এক কোটি মানুষের বাস। করোনার সংক্রমণ হওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শহরটিতে বাইরের বাসিন্দা ও তাদের গাড়ি আবাসিক ভবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে।

সরকারি এক আদেশে বলা হয়েছে, আবাসিক এলাকায় ঢুকতে বা বের হতে হলে স্থানীয়দের তাদের স্মার্টফোনে থাকা একটি কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে। যদি সেটি সবুজ রঙের হয় তাহলে ওই ব্যক্তি করোনামুক্ত বলে বিবেচিত হবেন। তবে সবাইকে মাস্ক পরতে বলা হয়েছে।

হেইলংজিয়াংয়ের সঙ্গে রাশিয়ার সীমান্ত রয়েছে। চীনে দ্বিতীয় দফায় করোনার সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে এই হেইলংজিয়াং। গত ১০ দিনে সেখানে ৫৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়। এর আগে চলতি মাসের শুরু দিকে করোনার সংক্রমণ রোধে রাশিয়ার সঙ্গে সব স্থলবন্দর বন্ধ করে দেয় চীন। এরপরও সংক্রমণ বাড়ছে।

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বজুড়ে তাণ্ডব চালিয়ে যাওয়া এই ভাইরাসে চীনের মূল ভূখণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৬৩২ জনের। আর আক্রান্ত হয়েছে ৮২ হাজার ৭৮৮ জন।

অন্যদিকে, করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৯০ হাজার ৬৫৪ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ভাইরাসটি গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানার অন্যতম ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বিশ্বের ২৭ লাখ ১৮ হাজার ৬৯৯ জন। এদের মধ্যে বর্তমানে ১৭ লাখ ৮২ হাজার ৪২৫ জন চিকিৎসাধীন এবং ৫৮ হাজার ৬৭৮ জন (৩ শতাংশ) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.