যে পন্থা অবলম্বন করে করোনায় সফল চীনারা


অনেকদিন পর এক চাইনিজ বন্ধুর সাথে কথা হলো। ৪৫ মিনিট কথোপকথনের কিছু অংশ তুলে ধরলাম:

  • চায়নাতে এখন কি অবস্থা চলছে বলোতো?
  • এখনো বিভিন্ন প্রদেশে মানুষ অনেক আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু, মৃতের হার নেই বললেই চলে।
  • তোমারও হয়েছিলো নাকি?
    -হয়নি, কিন্তু, উপসর্গ দেখা দিয়েছিলো। জানোতো আমাদের সরকার খুবই কড়া। সরকারের নির্দেশ মেনে বাধ্য হয়েই সবাই কোয়ারেন্টাইনে সঠিকভাবে ছিলো।
  • কিন্তু, মৃত্যুহার কমলো কিভাবে? কোন বিশেষ ওষুধ আবিষ্কৃত হয়েছে নাকি?
  • সবকিছুতে সরকারের উপর নির্ভর করলে চলবেনা, এই বিশ্বাস চায়নিজদের ছিলো। তারা করোনার ট্রিটমেন্টের উপর নির্ভর না করে উপসর্গের ট্রিটমেন্ট নিতে শুরু করে। আর কিছু প্রতিরোধমূলক কর্মকান্ড ও খাদ্য খাওয়া শুরু করে।
  • ক্যামন একটু বলো না? আমরা ভয়ে আছি।
  • শোন, আমরা তৈলাক্ত খাবার প্রায় বর্জন করেছি। খাদ্য তালিকায় ভিটামিন সি জাতীয় খাবার প্রচুর যুক্ত করেছি। দাত ব্রাশ করে ঘুমাতে যাওয়ার আগেও পারলে কয়েক কোয়া কমলা খাচ্ছি। সারাদিন পানি খাওয়ার পরিমান বাড়িয়েছি। তবে, অবশ্যই গরম পানি। পানির সাথে আদা, লেবুর রস পারলে ভিনেগার মিশিয়ে খাচ্ছি।
    -এসিডিটি হচ্ছে না?
    -আগে বাচলে পরে এসিডিটির চিকিৎসা করা যাবে। আর এখানে এখন জ্বর-সর্দি খুব কম হচ্ছে। গলা ব্যথা হয়ে তারপর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তাই, কিছুটা গরম পানি নিয়ে গড়গড়া করে কুলি করবার সময়ও আমরা মুখের ভেতর কিছুটা লবণ আর পেস্ট নিয়ে নিই।
    -এতে কি উপকার হচ্ছে?
    -গলাব্যথা হবার পরপরই কিছুটা কাশি পর্যন্ত পৌছে সেরে যাচ্ছে। প্রকট শ্বাসকষ্ট হয়ে মানুষ মরছে না। ওহ, পারলে গরম দুধ দিনের ভেতর কয়েকবার খাচ্ছি।
  • জানো, আমাদের ডাক্তাররা এগুলো অনেক আগেই আমাদেরকে বলেছিলো। আমাদের মানুষেরা পাত্তাই দেয়নি। তারা ভিটামিন সি, ভিনেগার, আদা আর উপসর্গের ট্রিটমেন্টের কথাই বলেছিলো।
    -ওয়ালিদ, এগুলো মেনে চলো। আর বাইরে যেওনা। আমি বলতে পারি আমার নির্দেশনা মেনে চললে তোমার হয়তো কিছু হবে না। কিন্তু, তোমার থেকে যদি আরো কারো ছড়ায় তার ইমিউনিটিতো তোমার মতো নাও হতে পারে। চাইনিজরা ওষুধের তুলোনায় খাদ্যাভ্যাসের উপর নির্ভরশীল বেশি। কিন্তু, তোমরা সেরকমটা নও তাও কিন্তু আমি জানি।
    -আচ্ছা, তাহলে প্রথমদিককার মৃত্যুর হার এতো বেশি ছিলো উহানে, তোমরা তখন খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করোনি?
  • সেসময় তাপমাত্রাও কিছুটা ফ্যাক্ট ছিলো। এখন আগের তুলোনায় অনেক উচ্চ তাপমাত্রায় আমাদের এই খাদ্যাভ্যাসগুলো বেশ উপকারে দিচ্ছে।

আমি জানিনা, ওর কথাগুলো কতোখানি উপকারে দেবে। কিন্তু, ওর এই কথাগুলোর অনেক কথাই আমাদের ডাক্তাররা আমাদেরকে প্রথমদিকেই বলেছে। কিন্তু, আমরা তখন এবং এখন কখনোই পাত্তা দিচ্ছি না। তবে, কয়েকদিন মেনে চলতেই বা সমস্যা কোথায়? আমাদের জন্য ঘরে থাকাটাই একমাত্র সমাধান। চাইনিজরা ঘরে থাকা এবং খাদ্যভ্যাস পরিবর্তনে একসাথে গুরুত্ব দিয়েছে। আমরা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন না করি অন্তত ঘরে থাকি।
লেখক: ওয়ালিদ ইসলাম, সহকারী সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ৩৫ তম বিসিএস

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!