গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন: ‘মাগো, কী বিভৎসতা’ অভিনেত্রীরা সরব

সম্প্রতি দেশজুড়ে ধর্ষণ, হত্যা, নারী নির্যাতন বেড়ে যাওয়াই এখন মূল আলোচনার বিষয়।দীর্ঘদিনের বিচারহীনতায় নারী-শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির ঘটনা বেড়েই চলেছে। এসব ঘটনায় রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা লোকজন জড়িত। নোয়াখালীর ওই ঘটনা ৩২ দিন আগের। এতদিন রাষ্ট্র, এই সরকার কী করেছে? এভাবে আর চলতে পারে না। এবার রাস্তায় নেমে আসতে হবে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুরে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন দেশের চলচ্চিত্র তারকারাও।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস। বেগমগঞ্জের ঘটনাটি ভীষণ মর্মাহত করেছে তাকে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে অরুণা বিশ্বাস ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন: ‘মাগো, কী বিভৎসতা! ধর্ষণ আবার ধর্ষণ, কী কুৎসিত! কবে থামবে?’ আরেকটি স্ট্যাটাসে অরুণা বিশ্বাস লিখেছেন, ‘এখন প্রত্যেকটি মেয়ের ত্রিশূল আর রামদা হাতে রাখার সময় এসেছে।’

এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন চিত্রনায়িকা নিপুণ। তিনি লিখেছেন, ‘মা আমি লজ্জিত, আমি বিক্ষুব্ধ, আমি বাকরুদ্ধ।’ চিত্রনায়ক জায়েদ খান লিখেছেন, ‘নোয়াখালীর ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এমন নরপশুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এ লজ্জা আমাদের সবার।’ জায়েদ খানের এই স্ট্যাটাসে মন্তব্য করেছেন আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম পারভীন। তিনি লিখেছেন, ‘প্রতিবাদ জানাই এবং যোগ্য শাস্তি দাবি করছি এই ঘৃণ্য বর্বরোচিত হামলার জন্য।’

ধিক্কার জানিয়ে চিত্রনায়িকা জাকিয়া বারী মম লিখেছেন, ‘এই ধর্ষণের দেশ আর চাই না। মাননীয় এত ক্ষমতা দিয়ে কী হবে? দেশের নারী ধর্ষিত আর আমরা ধর্ষক! ধিক্কার।’

দাম্পত্য কলহের কারণে গত কয়েক মাস ধরে বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন ভুক্তভোগী নারী। স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত ও অশালীন প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ঘরে ঢুকে ওই নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন চালায় তারা। ওই যুবকদের হুমকি ও ভয়ে ঘটনার পর থেকে বাড়ি ছেড়ে চলে যান তিনি। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরে বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার মো. আব্দুর রহিম ও রহমত উল্লাহর তিনদিন করে রিমান্ড মনজুর করেছেন আদালত।

সোমবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে তাদের নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাতদিন করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মাসফিকুল হক তিনদিন করে রিমান্ড মনজুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে ঢাকায় র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন মামলার প্রধান আসামি বাদল ও সন্দেহভাজন দেলওয়ার। এ নিয়ে এ মামলায় নোয়াখালী ও ঢাকা থেকে মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে ৯ জনের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!