November 29, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

দুর্বৃত্তদের হামালায় আহত ইউএনওকে ঢাকায় ভর্তি, অবস্থা আশঙ্কাজনক

দুর্বৃত্তদের হামালায় গুরুতর আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আনা হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে মারাত্মকভাবে আহত ইউএনওকে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার কিছু সময় পর ওয়াহিদা খানমকে নিওরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ইউএনওর বাসভবনে ঢুকে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর কমিউনিটি হাসপাতাল এবং তার বাবাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তোফায়েল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ইউএনওর মাথার বাম দিকে বেশি আঘাত লেগেছে। তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ধাতব কোনো বস্তু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়েছে। তার শরীরের ডান দিক অবশ হয়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ওয়াহিদার বাবা নওগাঁ জেলার বাসিন্দা। মাঝে মাঝে মেয়ের বাসায় বেড়াতে আসেন এই মুক্তিযোদ্ধা। ইউএনও ওয়াহিদার স্বামী রংপুরের পীরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।

জানা গেছে, ইউএনও’র বাবা ওমর আলী প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হন। কিন্তু আজ সকালে তিনি বাড়ি থেকে হাঁটার জন্য বের না হওয়ায় তার হাঁটার সঙ্গীরা খোঁজ নিতে বাসায় আসেন। পরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন তারা। পুলিশ গিয়ে ইউএনও ও তার বাবাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে। ঘটনার সময় বাসভবনের নিরাপত্তাকর্মীকে একটি কক্ষে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে জানায় পুলিশ।

তবে কারা এই ঘটনাটি ঘটিয়ে, কেন ঘটিয়েছে এই বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হচ্ছে।

দিনাজপুর-৬ আসনের জাতীয় সংসদ শিবলী সাদিক, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম ও পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম জানান, গতরাত ৩টার দিকে ঘরের ভেন্টিলেটর দিয়ে এক যুবক প্রবেশ করে। প্রথমে ওই যুবক তার বাবাকে আহত করে পাশের ঘরে আটকে রাখে। পরে ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়িভাবে তাকেও কুপিয়ে পালিয়ে যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা জেলা প্রশাসকের।
এদিকে,দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার জট অতি অল্প সময়ের মধ্যে খুলবে আশা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
ওই উপজেলায় নিজের সরকারি বাংলোয় হামলার শিকার ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে গুরুতর অবস্থায় বর্তমানে রাজধানীর নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩১ ব্যাচের কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে আসেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ। এসময় জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, সে (ইউএনও) বেশ সিরিয়াস পর্যায়ের রোগী। কারণ, আক্রান্ত খুব ডেপথ হয়েছে। আমাদের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার তার বাসায় অবস্থান করছে। আমরা কিছুক্ষণ আগে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, আমাদের সচিব কথা বলেছেন। বিষয়টি কী হয়েছে এবং এই দুর্বৃত্তরা কারা সে বিষয়ে এসপি বললেন, আমরা খুব দ্রুত দুর্বৃত্তদের নাম-ঠিকানা সব বের করতে পারবো। তারা আশাবদী খুব।অতি অল্প সময়ের মধ্যে আশা করি জটটা খুলবে এবং আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল কিন্তু তারা মুখোশ পরা ছিল। যে দুজন দুর্বৃত্ত, তাদের মুখে মুখোশ ছিল এবং সেগুলো দেখে পর্যালোচনা চলছে, ওখানে হাই পাওয়ার টিম কাজ করছে। পুলিশের চৌকশ একটি টিম কাজ করছে। তারা আশাবাদী যে খুব দ্রুত আমাদের জানাতে পারবেন কারা এই ঘটনাটা ঘটিয়েছে। আমরা অপেক্ষা করছি।

error: Content is protected !!