November 24, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

ক্রিকেটের চেয়ে বড় রাজনীতি ভারত-পাকিস্তান সিরিজ!

ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে জমজমাট লড়াইটা বোধ হয় এই দু’দলের। প্রতিবেশী দুই দেশের চিরবৈরিতা, সীমান্তের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে খেলার মাঠেও। সমর্থক মনে যেমন বৈরিতা থাকে তেমনি কথার লড়াই কিংবা শারীরিক ভাষায় নিজেদের দ্বন্দ্বের কথা জানান দেন ক্রিকেটাররাও। এর ফলে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায়, অন্য সব ম্যাচে হারা যাবে, কিন্তু এই ম্যাচে কোনোভাবেই হার নয়।

অবস্থা যখন এমন থাকে, ম্যাচটার আকর্ষণও বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

তবে দুই দেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এতটাই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে যে, দীর্ঘদিন ক্রিকেট মাঠের বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সমর্থকরা। কারণ পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ খেলতে ভারতীয়রা সবশেষ সফর করেছিল ১৪ বছর আগে। আর ভারতে পাকিস্তানিরা সবশেষ সিরিজ খেলেছে ৮ বছর আগে। এরপর দু’দলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজও আর হয়নি। এতগুলো বছরে কেবল আইসিসি ইভেন্টগুলোতে হাতেগোণা যে কয়েকবার দেখা হয়েছে, তাই-ই সই!

বহুল কাঙ্ক্ষিত ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বোধহয় শিগগিরই আর হচ্ছেও না। অন্তত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান এহসান মানির কথায় এমনটাই আভাস মিলছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ইতি না ঘটা পর্যন্ত কোনো ধরণের সিরিজ খেলতে আগ্রহী নয় পাকিস্তান।

বার্তা সংস্থা আইওএনএসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে পিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, বছরের পর বছর ধরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আমরা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিয়ে আলোচনা করেছি। যেকোনো মূল্যে তাদের সঙ্গে আমরা খেলতে চেয়েছি। তবে এখন আর সেই মনোভাব নেই আমাদের। এই মুহূর্তে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আমরা কোনোধরণের ম্যাচ খেলতে আগ্রহী নই। আগে দুই দেশের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হোক, তারপর আমরা ক্রিকেট নিয়ে কথা বলবো।

কেবল দ্বিপাক্ষিক সিরিজই নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় আসর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলেও অংশ নেয় না পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। ২০০৮ সালে আইপিএলের ১ম আসরে খেলেছিলেন ১১ জন পাকিস্তানি ক্রিকেটার। সেবারই শুরু, সেবারই শেষ। এরপর দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি হওয়ায়, এই আসরে ক্রিকেটার পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায় পিসিবি। ভারতীয় বোর্ডও আর পাকিস্তানি ক্রিকেটার খেলানোর মতো আগ্রহ দেখায়নি। যদিও বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তানি বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার আইপিএলে খেলার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। তবে নিজেদের সেই অবস্থান থেকে এখনো সরে আসার কোনো ইচ্ছে নেই পাকিস্তান বোর্ডের।

এহসান মানি বলেন, আমাদের কোনো ইচ্ছে নেই। নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে আমরা সরে আসছি না। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড চাইলে হয়তো কিছু করা যেত। কিন্তু তাদেরও এখন কিছু করার নেই। কারণ এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারবে কেবল সরকার।

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব সমাধানে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন আইসিসির সাবেক এই সভাপতি।

তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কিংবা কোনোধরণের ম্যাচ নিয়ে আমি ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে কথা বলিনি। তাদের যদি কিছু বলার থাকে এটা তাদের দায়িত্ব আমাদেরকে জানানো। আমরা আগ বাড়িয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছি না। আইসিসি’র সংবিধান বলে, ক্রিকেট বোর্ডে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকতে পারবে না। এই বিষয়টা তো রাজনৈতিক। সুতরাং আমি মনে করি, আইসিসির উচিত বিসিসিআইয়ের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলা।

বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে কোনোধরণের দেখাও হয়নি বলে জানিয়েছেন এহসান মানি। তবে এর আগে বেশ কয়েকবার দু’জনের ফোনালাপ হয়েছে।

error: Content is protected !!