November 28, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

কোথায় যাচ্ছেন মেসি, এত টাকা খরচ করবে কোন ক্লাব?

ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি। সোমবার (২৫ আগস্ট) রাতে হঠাৎ বার্সেলোনা ছাড়ার ঘোষণার পর নড়েচড়ে বসেছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।আর তাইতো নির্ঘুম রাত কাটছে তার ভক্তদের। মেসি সত্যিই কি বার্সেলোনা ছাড়বেন? নাকি সব জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে কাতালান ক্লাবেই থেকে যাবেন। ক্লাবের সবচেয়ে বড় তারকা যে আনুষ্ঠানিক জানিয়ে দিয়েছেন ক্লাবে থাকার ইচ্ছে নেই তার। আর তাতেই নড়েচড়ে বসেছে বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ। যে কোনো ভাবেই যেন ঠেকাতে হবে মেসিকে। তবে শেষরক্ষা হবে তো? আপাতত সে সম্ভাবনা ক্ষীণ। চারপাশে গুঞ্জন, কোথায় যাচ্ছেন মেসি? কারাইবা নিচ্ছে মেসিকে?

তিনি যদি বার্সেলোনা ছাড়েন, কোন ক্লাবে পাড়ি দেবেন? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনই জানা যাচ্ছে না। তবে বার্সেলোনা থেকে মেসিকে নিতে হলে বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে অন্য ক্লাবকে। রিলিজ ক্লজ বাবদই ৭০০ মিলিয়ন ইউরো দিতে হবে।

সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মেসির আইনজীবীর বার্তা পেয়েছেন বার্সেলোনা কর্মকর্তারা। তাতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ক্লাব ছাড়তে চান মেসি। জবাবে বার্সেলোনা থেকে জানানো হয়েছে, তারা চায় মেসি কাতালান ক্লাবেই থেকে যাক, সেখানেই নিজেদের পেশাদার ফুটবল জীবন শেষ করুন।

আরেকটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ২০১৭ সালে শেষবার বার্সার সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন মেসি। চুক্তির একটি অংশ তুলে ধরে বার্সা কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। চুক্তির সেই অংশ অনুযায়ী, কোনো অর্থ ছাড়াই বার্সা ছাড়তে পারবেন মেসি। কিন্তু গত ১০ জুনই সেই শর্তের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাই বড় অঙ্কের ‘রিলিজ ক্লজ’ দিতে হবে।

রয়টার্স সূত্রে খবর, বার্সার অনুমতি ছাড়া মেসি অন্য কোনো ক্লাবে যেতে হলে ‘রিলিজ ক্লজ’ বাবদ ৭০০ মিলিয়ন ইউরো দিতে হবে।

তাই প্রশ্ন উঠছে, মেসিকে নিতে কোনো ক্লাব এত টাকা খরচ করবে কি না। তালিকায় প্রাথমিকভাবে পিএসজি ও ম্যানচেস্টার সিটির নাম উঠে এসেছে। পিএসিজ কোচ কদিন আগে জানিয়েছিলেন, কোন কোচ মেসিকে দলে চায় না! এদিকে পেপ গার্দিওয়ালা ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হওয়ার পর থেকেই সেই ক্লাবে মেসি যেতে পারেন বলে গুঞ্জন শোনা যায়। মেসিকে দলে নেওয়ার জন্য যে পরিমাণই হোক অর্থ খরচে রাজি বলে দাবি করছে ইংলিশ ক্লাবটি।

এ তালিকায় সবার আগে শোনা যাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটির নাম। পেপ গার্দিওলার অধীনে একসময় খেলেছেন আর্জেন্টাইন তারকা মেসি। তিনিই এখন ম্যান সিটির কোচ। কিন্তু তিনিও স্পষ্ট বলে দিয়েছেন সিটিতে নয়, মেসির উচিত বার্সাতেই ক্যারিয়ার শেষ করা।

তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে মেসিকে পাওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে সিটিই। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম রেডিও কাতালুনিয়ার সাংবাদিক হাভি কাম্পোস ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, সিটিতে যাওয়ার ব্যাপারে গার্দিওলার সঙ্গে নাকি বেশ ক’বার ফোনালাপ সেরে ফেলেছেন লিওনেল মেসি।

সিটিতে যাওয়ার গুঞ্জন এবং গার্দিওলার অধীনে খেলার ব্যাপারে এর আগেও সরগরম হয়েছিল গণমাধ্যম।
২০১৬-১৭ মৌসুমের শুরুর দিকে গার্দিওলাকে ফোন করে মেসি জানিয়েছিলেন, প্রিয় কোচের অধীনে আরও একবার খেলতে চান মেসি

আর সেই সঙ্গে ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনাও অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছে মেসির এমন সিদ্ধান্তে। আর মেসির এমন ঘোষণার পর গুঞ্জন উঠেছে সাবেক গুরু পেপ গার্দিওলার বর্তমান ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতেই পাড়ি জমাবেন মেসি। এমনটাই জানিয়েছে ইএসপিএন। তবে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও এক নতুন সংবাদ। ম্যানচেস্টার সিটিতে তিন মৌসুম কাটিয়ে আমেরিকায় নিউইয়র্ক সিটি এফসিতে নাম লেখাবেন মেসি।

ম্যানচেস্টার সিটি মেসিকে দীর্ঘ সময় খেলার প্রস্তাবনা দিয়েছে। যা নিশ্চিত করতে পারেনি বার্সা বোর্ড। ম্যানচেস্টার পার্টনার ক্লাব নিউইয়র্ক সিটি এফসি। আর তিন মৌসুম সিটিজেনদের ডেরায় কাটিয়ে ক্যারিয়ারের শেষ সময়ে পাড়ি জমাবেন নিউইয়র্কে।

এছাড়াও ইএসপিএন আরও জানিয়েছে, খেলোয়াড়ি জীবন শেষে লিওনেল মেসিকে সিটি ফুটবল গ্রওুপের ব্র্যান্ড এম্বাসেডর হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সিটি ফুটবল গ্রুপ ম্যানচেস্টার সিটি, নিউইয়র্ক সিটি এফসিসহ বিশ্বজুড়ে আরও কয়েকটি স্বনামধন্য ক্লাব পরিচালনা করে থাকে।

ম্যানচেস্টার সিটি ৩৩ বছর বয়সী লিওনেল মেসিকে দলে ভেড়ানোর প্রধান কারণ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন লিগ জয়। সিটিজেনদের ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের লক্ষ্য পূরণের জন্যই মেসিকে দলে ভেড়ানো হবে। এরপর নিউইয়র্কে গিয়ে বুট জোড়া তুলে রাখবেন।

সোমবারেই ইএসপিএন সংবাদ প্রকাশ করেছিল মেসির জন্য আগ্রহী ম্যানচেস্টার সিটি। এবং অর্থনৈতিকভাবে তারাই মেসিকে দলে ভেড়ানোর দৌড়ে সবচেয়ে শক্তশালী অবস্থানে রয়েছে।

ইএসপিএন আরও নিশ্চিত করেছে যে মেসির সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা কথা বলেছে। ইতোমধ্যেই লিওনেল মেসিকে তাদের প্রজেক্ট সম্পর্কেও বিস্তারিত জানিয়েছে।

মেসি ক্লাব ছাড়ার প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছে, আর মেসিকে অনুসরণ করেই পরবর্তীতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আর সেই সঙ্গে উয়েফার এফএফপি ভঙ্গ না করেই কিভাবে মেসিকে ইতিহাদে ভেড়ানো যায় তা নিয়েই চলছে বিস্তারিত আলোচনা।

তবে সিটির সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে খোদ বার্সেলোনা বোর্ড। লিওনেল মেসিকে ফ্রিতে ক্লাব ছাড়তে দেওয়ার পক্ষপাতি নয় ক্লাব। আর এ কারণেই সিটিজেনদের বার্সা বোর্ডের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে মেসির জন্য ঠিক কি পরিমাণ অর্থ বার্সাকে প্রদান করতে হবে সিটিজেনদের। বার্সার সঙ্গে মেসির চুক্তি শেষ হবে ২০২১ সালে, যেখানে মেসির রিলিজ ক্লজ রয়েছে ৭০০ মিলিয়ন ইউরো।

এদিকে স্প্যানিশ গণমাধ্যম ওয়ান্ডা সেরো জানিয়েছে, মেসি বার্সেলোনা ছাড়ার সিদ্ধান্তে অনড়। এমনকি বার্তোমেউয়ের পদত্যাগও তাকে তার সিদ্ধান্ত থেকে টলাতে পারবে না। আর বার্সেলোনার জার্সি গায়ে তুলবেন না এই বিশ্ব তারকা।

error: Content is protected !!