কে হবে ইউরোপের গৌরী সেন?

ইটালি ও স্পেনের মতো দেশ করোনা সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে৷ অথচ ইউরোপীয় স্তরে সংহতির অভাব নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে৷ তবে আর্থিক ও অর্থনৈতিক সংকট এড়াতে কিছু উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে৷

করোনা সংকটের অর্থনৈতিক পরিণাম সামলাতে প্রবল চাপের মুখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা নীতিগতভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নিলেও সেই সহায়তার খুঁটিনাটি বিষয়ের রূপরেখার দায়িত্ব দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনকে৷ অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক সংকট সামলাতে বিশাল অঙ্কের আর্থিক সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন দেশের নানা প্রত্যাশা রয়েছে৷ তবে সেই সাহায্যের শর্ত নিয়ে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে৷
আসলে ইউরোপে করোনা সংকটের ফলে যেসব দেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলির অর্থনৈতিক অবস্থা সংকটের আগেও ভালো ছিল না৷ ফলে ইটালি, স্পেন, ফ্রান্স ও বেলজিয়াম বিপুল ঋণভারের কারণে বর্তমান পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে৷ বিপর্যস্ত অর্থনীতি চাঙ্গা করতে যে বাড়তি সরকারি ব্যয়ের প্রয়োজন, সেই অর্থ সংগ্রহ করা এই সব দেশের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন৷ বেপরোয়া হয়ে বাজার থেকে আরো ঋণ নিলে অর্থনীতি উলটে আরো বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে৷ অতএব ইইউ রক্ষাকর্তা হিসেবে আসরে নামুক, এমনটাই চায় এই সব দেশ৷
ইউরোপে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে দেড় লাখ কোটি ইউরো অঙ্কের ‘শেয়ার্ড ইঞ্জেকশন’ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ইইউ-র অর্থনীতির ভারপ্রাপ্ত কমিশনর পাওলো জেন্টিলোনি৷ এখনো পর্যন্ত সদস্য দেশগুলি এর এক-তৃতীয়াংশ দেবার অঙ্গীকার করেছে৷ তবে একমাত্র জরুরি ব্যয়ের জন্য সেই অর্থ কাজে লাগানো হবে৷ জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও নেদারল্যান্ডসের মতো কিছু দেশ এর বেশি কোনো পদক্ষেপ দেখতে চায় না৷ করোনা সংকটের ‘অজুহাত’ দেখিয়ে ঋণের ভারে জর্জরিত দেশগুলি নিজেদের বোঝা ভাগ করে নিতে চাইছে বলে অভিযোগ করছে এসব দেশ৷ সে কারণে বাজারে ‘করোনা বন্ড’ ছেড়ে অর্থ সংগ্রহের প্রস্তাব বাতিল হয়ে গেছে৷ এমন মৌলিক মতপার্থক্য কাটাতে ইইউ কমিশন প্রস্তাবিত আর্থিক সহায়তাকে ‘তহবিল’ না বলে ‘উদ্যোগ’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে৷
এমন অবস্থা সত্ত্বেও ইউরো এলাকার ঋণ সংকটের পুনরাবৃত্তি চায় না ইউরোপের দেশগুলি৷ সে যাত্রায় গ্রিসের মতো ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক শক্তিকে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচাতে ইইউ-কে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল৷ এবার ইটালি ও স্পেনের একই দশা হলে সেই মূল্য চোকানো আরও কঠিন হবে৷ গ্রিসের উপর যে শর্ত চাপানো হয়েছিল, এই দুই দেশ সে সব মেনে নিতে আপাতত প্রস্তুত নয়৷ তাই আপোশ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি ইইউ বাজেটের মধ্যেই এ সব দেশে আরও বিনিয়োগ করতে রাজি হয়েছে জার্মানির মতো ‘মিতব্যয়ী’ দেশগুলি৷

এতকাল ইইউ বাজেট এই রাষ্ট্রজোটের মোট অর্থনৈতিক শক্তির মাত্র এক শতাংশের সমান ছিল৷ মূলত চাষিদের ভর্তুকি দিতেই তার একটা বড় অংশ বেরিয়ে যেত৷ ইইউ কমিশনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফর ডেয়ার লাইয়েন সেই অঙ্ক এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়াতে চান৷ তাঁর পূর্বসুরি জঁ-ক্লোদ ইয়ুংকার এই মডেল তৈরি করেছিলেন৷ এর আওতায় সদস্য দেশগুলির চাঁদার পাশাপাশি বেসরসারি সূত্রে অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷ তবে ইইউ-র নিজস্ব অডিটাররা এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করায় বিষয়টি এখনো স্পষ্ট রূপ পাচ্ছে না৷ জটিল হিসেবের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেখানোর কারণে এই অর্থকে ‘ফানি মানি’ হিসেবে বর্ণনা করছেন অনেকে৷ তাই শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা অনুমোদন পাবে কি না, তা অনিশ্চিত রয়ে গেছে৷ ডয়চে ভেলে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!