কুয়েতে এমপি পাপুলের নজিরবিহীন কেলেঙ্কারির খোঁজ মিলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলকে নিয়ে আরো কেলেঙ্কারির খোঁজ পেয়েছে কুয়েত। গত দুই মাসে কুয়েতের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পাপুলের প্রতিষ্ঠান মারাফি কুয়েতিয়ার অন্তত চারটি চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। করোনাকালে এ ধরণের নবায়ন চুক্তির বিষয়টিকে নজিরবিহীন হিসেবে দেখছে সে দেশের আইন শৃঙ্খলাবাহিনী। ঘুষ ও উপহার দিয়ে পাপুল ওই চুক্তিগুলো নবায়ন করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

গালফ নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবপাচার, অর্থপাচার ও শ্রমিক নিপীড়নের অভিযোগে সংসদ সদস্য পাপুল এখন কুয়েতের কারাগারে আছেন। তাঁকে ঘিরে তদন্তের পরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। করোনা মহামারির মধ্যে যে চারটি চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে তার আর্থিক মূল্য সাড়ে ৩২ লাখ মার্কিন ডলার। এগুলোর বেশির ভাগই পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

কুয়েতের গণমাধ্যমগুলো প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদানের সঙ্গে জড়িত কুয়েতের একটি সংস্থা এ মাসের শুরুর দিকে এমপি পাপুলের প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ আগামী জুলাই থেকে ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য দরপত্রবিষয়ক কেন্দ্রীয় কমিটিকে চিঠি দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে অন্য কাউকে কাজের জন্য দরপত্র দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া আরেকটি সংস্থাও পাপুলের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

গালফ নিউজ জানায়, কুয়েতের দুজন আইন প্রণেতার বিরুদ্ধে পাপুলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন তদন্তকারীরা। এ ছাড়া আরো কয়েকজন ফেঁসে যেতে পারেন।

এদিকে শহিদ ইসলাম পাপুলকে এবার বাংলাদেশে এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংকের পরিচালক পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান ও এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান পদ থেকেও বাদ পড়েছেন তিনি। গত শনিবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। শহিদ ইসলামকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান তমাল পারভেজ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!