কিম জং উন আসলে কোথায় আছেন, ধূম্রজাল

শনিবার ছিল ‌“কোরিয়ান পেপলস রেভোল্যুশনারি আর্মি”-র ৮৮তম বার্ষিকী। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর সাথে দিনটি উদযাপনের অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি কিম জং উনকে। গত ১৫ই এপ্রিল ছিল উত্তর কোরিয়ার সূর্য দিবস বা “ডে অব দ্য সান” – যা কিম জং উনের পিতামহ এবং উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুং-এর জন্মদিন। কিন্তু ‌সেদিনের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন না কিম জং আন।

ফলে তার কী হয়েছে তা নিয়ে ব্যাপক গুজব ছড়াচ্ছে চারদিকে।এরই মধ্যে খবর পাওয়া গেছে যে চীন এমন একটি দল পাঠিয়েছে উত্তর কোরিয়ায় – যাতে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা আছেন।

এসব খবরের সত্যতা কতটা, জানতে বিবিসির লিজ ডুসেট কথা বলেছেন এ্যানা ফিফিল্ড-এর সাথে যিনি মার্কিন দৈনিক দি ওয়াশিংটন পোস্টের বেজিং ব্যুরোর প্রধান। কিম জং আনকে নিয়ে একই বইও লিখেছেন তিনি।

গুজবের দেশ কোরিয়া
গত সপ্তাহের শেষ দিকেই দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকেও খবর পাওয়া গেছে যে কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে কিছু একটা ঘটেছে। তবে এ্যানা ফিফিল্ড বলছেন, উত্তর কোরিয়া এমন একটি দেশ যেখান থেকে সব সময় গুজব আসছে। সেখানকার কোন সামরিক কর্মকর্তা মারা গেছেন বলে হয়তো দক্ষিণ কোরিয়ায় খবর বের হলো – আর তার পরই দেখা গেল সেই কর্মকর্তা দিব্যি জীবিত হেঁটে-চলে বেড়াচ্ছেন, তিনি বলেন।

তাই এসব গুজব নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব। উত্তর কোরিয়া এ ক্ষেত্রে একটা ব্ল্যাক হোলের মতো, বলছেন তিনি। তবে এটা বলতেই হবে যে, কিম জং উনকে নিয়ে সম্প্রতি একের পর এক গুজব বের হচ্ছে এবং তা আসছে একাধিক সূত্র থেকে। এ থেকে মনে হচ্ছে যে উত্তর কোরিয়ায় হয়তো সত্যি কিছু একটা ঘটেছে।

এ্যানা ফিফিল্ড বলছেন, এমন মনে করার কারণ – উপরোক্ত দুটি অনুষ্ঠানে কিম জং আনের অনুপস্থিতি। কারণ এটা খুবই অস্বাভাবিক। তবে ঠিক কী ঘটেছে তা এখনো অজানা।

সম্প্রতি রয়টার্স বার্তা সংস্থা একটি রিপোর্টে বলেছে, কিম পরিবারের একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে কিছুদিন আগে এমন একটি ট্রেন দেখা গেছে – যা ওই পরিবার ব্যবহার করে। উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকুলের ওই অবকাশ যাপন কেন্দ্রটি কিম জং আনের খুবই প্রিয় বলে জানা যায়।

অসুস্থতা নাকি স্রেফ ছুটি?

ফলে এর অর্থ হতে পারে এই যে তিনি হয়তো সেখানে কোন অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন – বলেন এ্যানা ফিফিল্ড।

তবে তিনি বলেন, অবশ্য এর এমন অর্থও হতে পারে যে কিম জং উন সেখানে সী-বিচে ছুটি কাটাচ্ছেন। অথবা হয়তো সেখানে কোন উপগ্রহ ব্যবস্থা স্থানান্তর করা হচ্ছে যা তারা প্রায়ই করে থাকে। ফলে আসলেই ঠিক কি হচ্ছে – তা বলা কঠিন।

কিম জং উনকে সবশেষ প্রকাশ্যে দেখা যায় গত ১১ই এপ্রিল। যারা সেই ছবি দেখেছেন তারা বলেন, তাকে দেখে তিনি ঠিক সুস্থ আছেন বলে মনে হচ্ছে না। কিম জং আন এখন অনেক মোটা হয়ে গেছেন। তার জীবনযাপনও ঠিক স্বাস্থ্যসম্মত বলে মনে করা হয় না।

এ্যানা ফিফিল্ড বলেন সেই ছবি তিনি দেখেছেন, এবঙ কিম জং উনকে নিয়ে গুজব ছড়ানোর এটাও একটা কারণ।
তার বয়স মাত্র ৩৬, সে তুলনায় তার ওজন অত্যন্ত বেশি, তিনি সর্বক্ষণ ধূমপান করেন। এমন কী তার স্ত্রীও বলেছেন যে তিনি কিছুতেই কিমের সিগারেট খাওয়া বন্ধ করাতে পারছেন না। ফলে তাকে এখন এমন কারো মতই দেখায় যার যে কোন সময় হৃদরোগের মতো সমস্যা হতে পারে।“

যা রটে তা কি বটে?

এ কারণে মনে করা হচ্ছে এসব গুজবে হযতো কিছুটা সত্যি আছে। যেমন এক খবরে বলা হয় যে কিম জং আনের রক্তনালীতে স্টেন্ট বা রিং পরানো হয়েছে। এখন বিশ্বব্যাপি যে করোনাভাইরাস মহামরি চলছে, তা নিয়ে উত্তর কোরিয়া বলেছে – সেখানে কেউ আক্রান্ত হয় নি। তবে সংখ্যায় কম হলেও কিছু লোক হয়তো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হযে থাকতে পারেন এমন মনে করার কারণ আছে, এ্যানা ফিফিল্ড বলেন।

উত্তর কোরিয়ার কিছু জেনারেলকে কিম-এর আশপাশে থাকার সময় মাস্ক পরতে দেখা গেছে। ফলে তার অসুস্থতার গুজবের পেছনে অনেক কারণই থাকতে পারে।‍ বিবিসি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!