করোনা রোগীর চিকিৎসায় যুক্ত নন চিকিৎসকরা কেন আক্রান্ত হচ্ছেন?

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে অথবা উপসর্গ নিয়ে ১৮ জুন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪১ জন চিকিৎসক মারা গেছেন। যাদের একটি বড় অংশই সরাসরি কোভিড-১৯-এ আক্রান্তদের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। 

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন বলছে, সারা দেশে ১ হাজার ৩৫ জন চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকাতেই রয়েছেন প্রায় ৪০০জন। সংগঠনটির মহাসচিব ডা. মোঃ ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেছেন, সরাসরি কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত নন, এমন চিকিৎসকদের আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে তারা নিজেরা অনুসন্ধান করেছেন।

এতে তারা কিছু সম্ভাব্য কারণ জানতে পেরেছেন, “যেসব  চিকিৎসক মারা গেছেন তাদের বেশিরভাগই বয়স্ক ছিলেন। আমরা খুঁজে দেখেছি তাদের পরিবারের আরও অনেক সদস্য, পেশায় চিকিৎসক। তারা এক বাসায় থাকতেন। এতে তাদের কর্মস্থল থেকে একটা সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়ে যায়।”

ইহতেশামুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন যে, কয়েকজনকে পাওয়া গেছে যাদের ভবনে, অন্য ফ্ল্যাটে করোনাভাইরাস আক্রান্ত পরিবার ছিল। ওই চিকিৎসকেরা তাদের ফ্ল্যাটেই চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। নিয়মিত সেসব প্রতিবেশীদের বাসায়ও যেতেন এবং এসব ডাক্তারদের অনেকের ক্ষেত্রে ‘কন্টাক্ট ট্রেসিং’ সঠিকভাবে করা হয়নি।

অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, বাংলাদেশে মোট যত ব্যক্তি কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন তার চার শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী। শুরুতে স্বাস্থ্যকর্মীদের যথেষ্ট এবং ভাল মানের সুরক্ষা সামগ্রী দেয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ ছিল। তবে সেই পরিস্থিতি এখন অনেকটা বদলে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকার একটি হাসপাতালের একজন সিনিয়র নার্স মনে করছেন, সাধারণ রোগীদের অনেকেই লক্ষণ লুকাচ্ছেন, যেটি কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় যুক্ত নন এমন স্বাস্থ্যকর্মীদের সংক্রমিত করতে পারে।

বিএমএ-র হিসেবে সারা দেশে নার্স আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮৫ জন। সংক্রমণ এড়াতে ইদানিং অনেক সাধারণ হাসপাতালে রোগীদের ভর্তি করার আগে করোনাভাইরাস পরীক্ষার নেগেটিভ সার্টিফিকেট চাওয়া হচ্ছে। উপসর্গ থাকলে তাদের হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

ডা. আনোয়ার বলেন, “রোগীদের সাথে যে আত্মীয়রা অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে আসে। তাদের আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। এখন একজন রোগীর সাথে যে অ্যাটেনডেন্ট আসতে দেয়া হচ্ছে, সেই অ্যাটেনডেন্ট আক্রান্ত কিনা, উপসর্গহীন কিনা সেটা কিন্তু আমরা বুঝতে পারছি না।”

তিনি আরো বলেন, “তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর যে কর্মীরা রয়েছেন তারা বাড়িতে হয়ত স্বাস্থ্যবিধি না মেনে তারা কাজে আসছে। তাছাড়া তাদের যথেষ্ট সুরক্ষা সামগ্রী আমরা দিতে পারছি না। পর্যাপ্ত পরিমান মাস্ক দেয়া হচ্ছে না, সেকারণে ওরা একই মাস্ক বারবার পরছে।” অথচ এই কর্মীদেরই সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা দরকার বলে মনে করেন ডা. রোকেয়া আনোয়ার। 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন বলছেন,  “আমাদের হাসপাতালগুলোতে এখন ‘কোভিড নন-কোভিড’ এক জায়গায় হয়ে যাচ্ছে। অধিক সংখ্যক মানুষকে চিকিৎসা দিতে হলে, কাজের চাপ বেশি থাকলে নিজের প্রতি যত্ন সেভাবে নেয়া যায় না। হয়ত গ্লাভস বা মাস্ক বদলানো দরকার, কিন্তু তিনি কাজের চাপে পারছেন না”। “এমন হতে পারে যে, সেগুলো হয়ত বদলাচ্ছেন, কিন্তু সেটিকে সুরক্ষিত জায়গায় ফেলছেন না।” 

স্বাস্থ্যসেবার সাথে জড়িতরা কমিউনিটি থেকেও আক্রান্ত হচ্ছেন কিনা, রোগী ও রোগীর আত্মীয়দের তথ্য লুকানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব, আসলে কোন, কারণ কতটা দায়ী সে নিয়ে এপর্যন্ত কোন তথ্য বের করা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!