December 4, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণকারী অসুস্থ, অক্সফোর্ডের তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল স্থগিত

পুরো বিশ্বেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই। প্রথম থেকেই এই ভ্যাকসিনকে সবচেয়ে নিরাপদ বলে আসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এমনকি এখন পর্যন্ত করোনার যতগুলো সম্ভাব্য ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে সবগুলোর মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে এগিয়ে আছে অক্সফোর্ড।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি নভেল করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের তৃতীয় ও শেষ ধাপের ট্রায়াল স্থগিত করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক ট্রায়ালে করোনার ভ্যাকসিনটি শরীরে নেওয়া যুক্তরাজ্যের এক নাগরিক অসুস্থ হওয়ায় ট্রায়াল স্থগিত করা হয়েছে।

ভ্যাকসিন উৎপাদনে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদার অ্যাস্ট্রাজেনেকা বলছে, ট্রায়াল স্থগিতের এ ঘোষণা নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। কেননা ভ্যাকসিন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তির অসুস্থ হওয়ার কারণ এখনো অজানা।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে বলেন, ‘বড় বড় ট্রায়ালের সময় দৈবাৎ কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। এসব ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ওই ব্যক্তিদের সার্বিক পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে।’

অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিনটির ট্রায়াল বিশ্বজুড়েই চলছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার ৩০ হাজার মানুষের ওপর অক্সফোর্ডের এ ভ্যাকসিনের তৃতীয় ও শেষ ধাপের পরীক্ষামূলক ট্রায়াল চলছিল।
এ ছাড়া দেশে দেশে করোনার ভ্যাকসিন তৈরির প্রতিযোগিতায় অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনটি নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে বৈশ্বিক অবস্থানেরও শীর্ষে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো ভ্যাকসিনের ট্রায়াল আবারও শুরু করা সম্ভব হবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৮০টি ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চলছে। তবে এদের মধ্যে কোনটিরই এখনও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ হয়নি।

এর আগে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের তৈরি নভেল করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন চ্যাডক্স১ এনকোভ-১৯ নিরাপদ এবং করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক বলে ঘোষণা দেয়া হয়।

প্রথম ধাপে ১ হাজার ৭৭ জনের শরীরে ভ্যাকসিনটি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, এই ভ্যাকসিনটি যাদের প্রয়োগ করা হয়েছিল, তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি এবং শ্বেত রক্তকণিকা (হোয়াইট ব্লাড সেল) তৈরি করে; যা শরীরে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।

অক্সফোর্ড বিজ্ঞানীদের এই ভ্যাকসিনকে বড় ধরনের প্রতিশ্রুতিশীল উদ্ভাবন হিসেবে মনে করা হয়। অ্যাস্ট্রাজেনেকা বলছে, চলতি বছরের শেষ দিকে ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতার ব্যাপারে তারা চূড়ান্ত তথ্য-উপাত্ত পাবেন বলে আশা করছেন। শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যাজনিত কোভিড-১৯ রোগের বিরুদ্ধে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনটিকে ‘দ্বৈত প্রতিরক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
এদিকে,অক্সফোর্ডের টিকার চূড়ান্ত ট্রায়াল বন্ধে হতাশ বা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যে কোনো ওষুধ নিয়ে গবেষণা চলাকালে কোন স্বেচ্ছাসেবীর অসুস্থ হয়ে যাওয়া নতুন কিছু নয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রিদয়ানুর রহমান বলেন, একজন স্বেচ্ছাসেবী অসুস্থ হয়ে পড়া যেকোন ওষুধ গবেষণার জন্যে কোন নতুন ঘটনা নয়। এটা অ্যান্টিসিপেট করা হয় এবং সেজন্য প্রস্তুতিও থাকে। এটাতে কোন আতংকিত হওয়ার কিছু নেই।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু ৫০ হাজার মানুষ তার মধ্যে একটি সম্পর্কহীন ঘটনা ঘটতে পারে, তবে সেটা হয়ত এই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না। কিন্তু যতক্ষণ এটা প্রমাণ না হবে ততক্ষণ এই গবেষণা বন্ধ রাখা খুবই নৈতিকতার কাজ হয়েছে।
অধ্যাপক ডা. রিদয়ানুর রহমান বলেন, এটা বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া অস্বাভাবিক নয়, স্বাভাবিক। নিরাপত্তার জন্য এই ট্রায়ালটি বন্ধ করা হয়েছে। এখানে হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই।

error: Content is protected !!