করোনা নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে বাড়ছে ক্ষোভ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রকোপ চীন যেভাবে মোকাবেলা করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

ফিনানসিয়াল টাইমস পত্রিকায় দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন চীন এই সঙ্কট অন্যদের থেকে ভালভাবে মোকাবেলা করেছে এটা বলা ‘অজ্ঞতা’ হবে। তিনি বলেছেন, ‘কী ঘটেছে তা আমরা আসলে জানি না।’

প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর ক্ষোভের কারণ এই ভাইরাস মোকাবেলায় পশ্চিমা সরকারগুলোর ভূমিকা নিয়ে চীনের এক নিবন্ধ।

চীনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে এক নিবন্ধে লেখা হয়েছে পশ্চিমের দেশগুলো বৃদ্ধ মানুষদের দেখাশোনার জন্য যে আবাসনগুলো রয়েছে সেখানে বয়স্কদের মৃত্যুর মুখে ফেলে রেখে দিচ্ছে – তাদের সেখানেই মরতে দিচ্ছে।

এই নিবন্ধ প্রকাশের পর প্যারিসে চীনা রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এর প্রতিবাদ জানায়।

চীন থেকে এই ভাইরাস ছড়ালেও চীনের চেয়েও বেশি মানুষ মারা গেছে আমেরিকা ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে।

চীনে মৃতের সংখ্যা নিয়ে এবং চীন কত দ্রুত তা মোকাবেলা করেছে বা অন্য দেশগুলোকে কত দ্রুত এই ভাইরাস সম্পর্কে সতর্ক করেছে সন্দেহ প্রকাশ করেছে আমেরিকা এবং ব্রিটেনও। তবে চীনের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

পশ্চিমের দেশগুলোতে এই ভাইরাসে যে হারে মৃত্যু ঘটছে এবং কেয়ার হোম বা বৃদ্ধ নিবাসগুলোকে যেভাবে অবহেলা করা হচ্ছে তা নিয়ে এসব দেশে বহু কর্মকর্তাকে নানাধরনের জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। আর এসব দেশের জনসংখ্যা চীনের তুলনায় অনেক কম।

আমেরিকা আর ব্রিটেন চীনের দেয়া পরিসংখ্যান ও তাদের ব্যাখ্যা বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে দাবি তোলায় সবার থেকে এগিয়ে রয়েছে।

ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডমিনিক রাব বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন এই প্রাদুর্ভাব কীভাবে শুরু হল এবং ‘কেন তা আরও আগে থামানো গেল না’ তা নিয়ে চীনকে ‘কঠিন প্রশ্নের’ মুখোমুখি করতে হবে।

তিনি বলেছেন, চীন থেকে এই ভাইরাস কীভাবে বাইরে এভাবে ছড়ালো তা ‘গভীরভাবে অনুসন্ধান’ করতে হবে এবং এই সঙ্কটের পর ‘সব লেনদেন আগের মতই’ চালানো যাবে না। বিবিসি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!