করোনায় বেড়েছে গাঁজার চাহিদা

প্রাণঘাতী করোনাভাইরা স মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে গোটা বিশ্ব। করোনার উৎপত্তির প্রায় পাঁচ মাস হতে চললেও প্রতিষেধকের কোন দেখা নেই। করোনা থেকে মুক্তি পেতে দেশে দেশে চলছে লকডাউন। পৃথিবীজুড়ে অসহায়দের হাহাকার। ঠিক সেই সময়ে বেড়েছে গাঁজার চাহিদা ।তবে লকডাউনের কারণে সরবরাহে ঘাটতিও বেড়েছে৷

‘হেডসেট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি দিকে এক সপ্তাহে গাঁজা বিক্রি শতকরা ৬৪ ভাগ বেড়েছিল৷ ২০১৯ সালের শুরু থেকে, অর্থাৎ এক বছরেরও বেশি সময় এত গাঁজা বিক্রি কখনোই হয়নি৷

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০১৩ সালেই জানিয়েছেন, মারিজুয়ানা বা গাঁজা একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় নিলে মৃগী বা এ ধরণের কিছু স্নায়ুরোগ থেকে দূরে থাকা যায়৷ বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী জার্নাল অফ ফার্মাকোলজি অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল থেরাপিউটিক্স-এ ছাপাও হয়েছে তাঁদের এই গবেষণালব্ধ তত্ত্ব৷

যুক্তরাষ্ট্রে এপ্রিল মাসে গাঁজা বিক্রি আরো বেড়ে যায়৷ বেশিরভাগ রাজ্য গাঁজাকেও ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের’ মর্যাদা দেয়ায় ক্রেতাদের মাঝে গাঁজা কিনে রাখার প্রবণতা বাড়তে থাকে৷ ‘প্রোহিবিশন পার্টনার্স’ নামের ডেটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা স্তেফেন মারফি মনে করেন, রাজ্যগুলোর এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গাঁজা শিল্পের ক্রমশ বেড়ে চলা গুরুত্ব স্বীকার করে নেয়া হয়েছে৷

তবে এ শিল্পের বিকাশে বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন তিনি৷

গত এপ্রিলে ৩৩ টি গাঁজা খামারের ব্যবসা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে মারিজুয়ানা বিজনেস ডেইলি দেখেছে, আটটি খামারের আগামী দশ মাস টিকে থাকার মতো তহবিল নেই৷

এব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্স গ্লোবাল ক্যানাবিস কম্পিটিটিভ পিয়ার্স ইন্ডেক্স অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চের ১৮ তারিখ পর্যন্ত গাঁজা ব্যবসায় যে অধোগতি দেখা গিয়েছিল, তা এখনো অব্যাহত আছে৷

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!