করোনায় বাংলাদেশের পাশে দাড়াচ্ছে ভারত

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয়নি। দেশে দেশে চলছে গবেষণা। কতদিন নাগাদ এই ওষুধ পাওয়া যাবে, তা-ও বলতে পারছেন না গবেষকরা।

এরই মধ্যে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ‘হাইড্রোকুইনন’ নামে ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ কার্যকর হচ্ছে। আর হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ওষুধের সবচেয়ে বড় উৎপাদনকারী দেশ বর্তমানে ভারত।

ইতোমধ্যেই এই ওষুধের জন্য ৩০টির বেশি দেশ ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এরপরেই বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের তালিকা তৈরি করেছে ভারত। প্রথম দফায় এসব দেশকে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

করোনার চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের কার্যকারিতা জানার পর গত ২৫ মার্চ ওই ওষুধের রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এরপরই আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বিধিনিষেধ তুলে নিতে বাধ্য হয় দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, জার্মানি, বাহরাইন, ব্রাজিল, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশে এই ওষুধ পাঠানো হবে। এদিকে, গুজরাটের তিনটি কারখানা থেকে হাইড্রোক্সিক্লােরোকুইনের অন্তত ২ কোটি ৯০ লাখ ডোজ যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ধাপে রফতানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিশ্বে হাইড্রোক্সিক্লােরোকুইনের মোট উৎপাদনের ৭০ শতাংশই ভারতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য প্রতিষেধক হিসাবে হাইড্রোক্সিক্লােরোকুইন শনাক্ত করেছে।

এদিকে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪২৪ এবং মারা গেছে ২৭ জন। এখন পর্যন্ত ৩৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন তবে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। করোনার এই দুঃসময়ে বাংলাদেশকে ২০ লাখ হাইড্রোক্সিক্লােরোকুইন ট্যাবলেট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ভারত।

এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ লাখের বেশি। অপরদিকে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১ লাখ ২ হাজার ৭৫১ জন। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫২৯ জন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!