করোনাকে হারাতে পারে এমন ‘অ্যান্টিবডি’ তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা!

অতি অল্প সময়ের মধ্যেই করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে চলছে নভেল করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন তৈরির কাজ। কোন ওষুধ নেই, প্রতিষেধক নেই। শুধুই মৃত্যুর অপেক্ষা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা উঠেপড়ে লেগেছেন একটা ওষুধ বা ভ্যাকসিন তৈরিতে। এখনও সফলার মুখ দেখেননি।তবে চলতি সপ্তাহে যেন সে কাজ আরো গতি পেয়েছে।

অবশেষে আশার বাণী শুনিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানীরা। ব্লুমবার্গ সূত্র বলছেন, পরীক্ষাগারে তারা এমন একটি ‘অ্যান্টিবডি’ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন যেটা নভেল করোনাভাইরাসকে পরাস্ত করতে সক্ষম। কভিড-১৯ চিকিৎসা ও মহামারিটির বিস্তার রোধে এটা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত পরীক্ষামূলক এই অ্যান্টিবডি কভিড-১৯ সম্পর্কিত রোগের চিকিৎসা এবং ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোতে এটা সত্যিই কাজ করছে কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন, অ্যান্টিবডি’র আবিষ্কারক দল নেদারল্যান্ডসের উট্রেচ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বেরেন্ড-জান বোশ এবং সহকর্মীরা

47D11 নামে পরিচিত এই অ্যান্টিবডি করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করে এবং এর স্পাইকগুলোকে একটি মুকুট দিয়ে মুড়ে এটিকে নিষক্রিয় করে দেয়। ফলে ভাইরাসটি নতুন কোষে প্রবেশ করার ক্ষমতা হারায়। উট্রেচ্টের পরীক্ষায়, এটি কভিড -১৯ এর জন্য দায়ী ভাইরাসকে কেবল পরাস্তই করেনি বরং একই ধরণের স্পাইক প্রোটিন দিয়ে সজ্জিত করোনার কাজিন সার্স ভাইরাসকেও পরাস্ত করেছে।

প্রসঙ্গত, করোনার তাণ্ডবে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। এরই মধ্যে প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। সেই সাথে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। সারা বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে ৩৫ লাখ ছাড়িয়েছে। ওয়াল্ড ও মিটারের দেওয়া তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার ২৯৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ২ লাখ ৪৮ হাজার ২৮৬ জন। এরই মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১১ লাখ ৫৪ হাজার ৬১ জন।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৮৭টি দেশ ও অঞ্চল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ৮৮ হাজার ১২২। মৃত্যু হয়েছে ৬৮ হাজার ৫৯৮ জনের। আর এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৬৩ জন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!