November 28, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

ওসি প্রদীপের স্ত্রীর বিদেশে যাওয়া ঠেকাতে সব ইমিগ্রেশনে চিঠি দুদকের

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদকে গুলি করে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কক্সবাজারে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তার স্ত্রী চুমকির বিদেশে যাওয়া ঠেকাতে দেশের সব ইমিগ্রেশনকে চিঠি দিয়েছে দুদক।এর আগে, প্রদীপকে গ্রেফতার দেখাতে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুল আলমের আদালতে আবেদন করেন দুদকের আইনজীবী।
শুনানি শেষে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন বিচারক। ৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৩ লাখ টাকা সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে, গত ২৩ আগস্ট মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন
এর আগে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকির জ্ঞাত আয় বর্হিভূত ৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ২৩ আগস্ট দুপুরে দুদক চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়-১ এ সমন্বিত আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ও দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন জানান, প্রায় ৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং তার স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে মামলা দায়ের করেছে দুদক। প্রদীপের সম্পদ অনুসন্ধান ও প্রাথমিক তদন্তে দুদকের কেন্দ্রীয় অনুমোদন পাওয়ার পরই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

দুদক চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয় মূলত ২০১৮ সাল থেকে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২০ এপ্রিল ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব দাখিলের জন্য নোটিশ প্রদান করা হলে একই বছরের জুন মাসে ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রী সম্পদের হিসাব দাখিল করেন। এই সম্পদ বিবরণীর আলোকে দীর্ঘ অনুসন্ধানে দুদক প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় ৪ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের তথ্য পেয়েছে।
১৯৯৫ সালে পুলিশ বাহিনীতে এসআই পদে চাকরি পাওয়ার পর থেকেই মূলত ওসি প্রদীপ অবৈধ সম্পদ অর্জনে আত্মনিয়োগ করে। তার সম্পদ দৃশ্যমান হতে থাকে ২০০২ সাল থেকে।

দুদক সূত্র জানায়, ওসি প্রদীপের সব সম্পত্তিই তার স্ত্রী চুমকি কারণের নামে। যার কোনো বিশ্বাসযোগ্য জ্ঞাত আয়ের উৎসই নেই। চুমকি কারণের নামে ৪ কোটি ৪৪ লাখ ১৮ হাজার ৮৬৯ টাকার সম্পদ থাকার প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে তিনি পারিবারিক ব্যয়সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে খরচ করেছেন ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। চুমকি কারণের পূর্বের সঞ্চয়, উপহার, বাড়িভাড়া থেকে বৈধ আয় হিসেবে ৪৯ লাখ ১৩ হাজার ২৩৪ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। বৈধ আয় বাদ দিলে চুমকির নামে মোট তিন কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। এটা তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে সম্পদ ক্রয় করে স্ত্রীর নামে রেখেছেন বলে দুদক অনুসন্ধানে তথ্য পেয়েছে।

এদিকে,অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকা-ের ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দিতে আরও সাতদিন সময় পেয়েছে। গত ৩০ আগস্ট তদন্ত কমিটি সময় বাড়ানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। আজ ৩১ আগস্ট ছিল তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা দেওয়ার শেষ দিন।
আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কমিটির মেয়াদ বাড়িয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এটি চতুর্থ দফা সময় বৃদ্ধি। গত ৪ আগস্ট তদন্ত কমিটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু করা হয়। পরবর্তীতে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন দফা সময় বৃদ্ধি করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আজ (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তদন্ত কমিটির মেয়াদ বাড়িয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়েছে। আশাকরি সাত তারিখের আগেই আমরা রিপোর্ট জমা দিতে পারবো।

তিনি জানান, মেজর সিনহা নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্তে কমিটি এ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৬৭ জনের জবানবন্দি নিতে পেরেছে। টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া সাবেক ওসি প্রদীপ যেহেতু এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট, তার জবানবন্দির অপেক্ষায় ছিল কমিটি। প্রদীপ রিমান্ডে থাকায় তার জবানবন্দি নিতে পারেনি কমিটি। ঐ কারণেই তদন্ত কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। আশাকরি আগামী ২ সেপ্টেম্বর বা পরেরদিন ওসি প্রদীপের জবানবন্দি নিতে পারবো। যেহেতু আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর প্রদীপের রিমান্ড শেষ হচ্ছে। আমরা একটি স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ রিপোর্ট দিতে পারবো। তদন্ত কমিটির অপরাপর সদস্যরাও তদন্ত কার্যক্রমে আন্তরিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা তদন্ত কার্যক্রম অনেকটা গুছিয়ে আনতে পেরেছি।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এই তদন্ত কমিটি করেছিলেন। এই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একজন প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে আছেন লে. কর্নেল সাজ্জাদ যাকে মনোনীত করেছেন রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডার। পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ পুলিশ মহাপরিদর্শকের মনোনীত অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জাকির হোসেন। এছাড়া কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. শাজাহান আলি এই তদন্ত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

এ কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার কারণ ও উৎস অনুসন্ধান করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে মতামত দেওয়ার কথা রয়েছে।
৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।এ ঘটনায় আত্মসমর্পণের পর ৬ আগস্ট ওসি প্রদীপ, লিয়াকত ও নন্দ দুলালসহ সাত পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে দ্বিতীয় দফায় ২৪ আগস্ট আরও সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল র‌্যাব। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। ওই চার দিন রিমান্ড শেষ হলে তদন্তের স্বার্থে তৃতীয় দফায় আরও চার দিনের আবেদন করা হলে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তাদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত ।

error: Content is protected !!