এমপি পাপুলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতায় কুয়েতের মেজর জেনারেল বরখাস্ত

সম্প্রতি মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সাংসদ শহিদ ইসলামের (পাপুল) কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মারজান আল জারাহকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কুয়েতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস আল সালেহ ডিক্রি জারির মাধ্যমে তাকে বরখাস্ত করেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) কুয়েতের আরব টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, মানবপাচার ও অর্থপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৭ জুন কুয়েত ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট সিআইডি এমপি পাপুলকে আটক করে। তাকে দেশটির সিআইডি রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। কুয়েত সিআইডি এসব অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে। এছাড়া পাপুলের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ইতোমধ্যে কুয়েতের তিন জন সরকারি কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পাপুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৬ জুলাই। সে কারণে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত তাকে আটকই থাকতে হবে।

আনাস আল সালেহ সোমবার সে দেশের গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, সরকার ভিসা বাণিজ্যের মতো ভাইরাস নির্মূলে বদ্ধপরিকর। ওই অপরাধে যারাই অভিযুক্ত হবেন, তাদের সবাইকে একই ফল ভোগ করতে হবে।

তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে কুয়েতের গণমাধ্যম আল কাবাস, আরব টাইমস এবং আল রাইয়ের খবরে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মারজান আর জারাহ বাংলাদেশের সাংসদ শহিদ ইসলামের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন। মানব ও অবৈধ মুদ্রা পাচারের অভিযোগে ৬ জুন থেকে কুয়েতে আটক আছেন লক্ষীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ শহিদ ইসলাম।

‘ট্রাফিকিং ইন পারসন রিপোর্ট ২০২০’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে ২০ হাজার বাংলাদেশিকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কুয়েতে নিয়ে যান এমপি পাপুল। কিন্তু সেখানে তাদের যে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল, বেশির ভাগকেই তা দেওয়া হয়নি। যে বেতনের কথা বলা হয়েছিল, তারা তার চেয়ে কম বেতন পেয়েছেন বা একদমই পাননি।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বেশ কয়েকবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!