এমপি পাপুলসহ তার পরিবারের ব্যাংক হিসাব স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস‌্য (এমপি) কাজী সহিদ ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সব হিসাব স্থগিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পাপুলের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটকে (বিআইএফইউ) এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়।

দুদকের ওই চিঠিতে কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিনের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দেশি-বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা সব ব্যাংক হিসাব স্থগিত করার অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠিতে অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের ব্যাংক হিসাবগুলো স্থগিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ‘জরুরি ভিত্তিতে’ অনুসন্ধান কর্মকর্তাকে দিতেও অনুরোধ করা হয়।

এ বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্যের কাছে জানতে চাইলে বলেন, সংসদ সদস্য পাপুলের বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এরইমধ্যে তার পরিবারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে অনুসন্ধান কর্মকর্তা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিতে পারেন। যা অনুসন্ধান ও তদন্ত পর্যায়ের রুটিন কাজ।

গত ১৮ জুন পাপুল, তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকাকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ইমিগ্রেশনে চিঠি দেয় দুদক।

ওই দিনই পাপুল দম্পতি ও পাপুলের শ্যালিকার আয়করের নথিপত্র চেয়ে এনবিআরের কর অঞ্চল-৫ ও কর অঞ্চল-১৩ এর ডেপুটি কমিশনার বরাবর দেওয়া চিঠিতে গত তিন অর্থবছরের আয়কর রিটার্নসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চায় দুদক।

এর আগে দুদক মানব ও অর্থপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের পাপুলের স্ত্রী পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও সেলিনার বোন জেসমিন দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

এমপি পাপুল তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার নামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ আছে। কুয়েতে মানবপাচার এবং প্রবাসীদের উপার্জনের টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন জালিয়াতি ও ভিসা ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকা বাগিয়ে নিয়েছে পাপুল ও তার পরিবার।

একজন সাধারণ শ্রমিক হিসাবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া কাজী শহীদ পাপুল ২০১৮ সালে লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই আসনটি আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেষ মূহূর্তে ভোট থেকে সরে দাঁড়ালে বিএনপি ঠেকাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ পাপুলের পক্ষে কাজ করে।পাপুল নিজে এমপি হওয়ার পর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কোটায় পাওয়া সংরক্ষিত একটি আসনে তার স্ত্রী সেলিনাকে এমপি করে আনেন।

প্রবাসী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান পাপুল, যেখানে তার বড় অঙ্কের শেয়ার রয়েছে।পাপুলের মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করেন বলে কুয়েতে বাংলাদেশি কমিউনিটির ধারণা।

উল্লেখ, প্রতারণা-মানবপাচার-অর্থ পাচারের অভিযোগে লক্ষীপুর-২ আসনের এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল কুয়েতে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা পাচার, প্রতারণার অভিযোগ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পেয়েছে বলে খবর দিয়েছে সে দেশের গণমাধ্যম।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!