ইরানের প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী ফাখরিজাদেহ চিরনিদ্রায় শায়িত

অনলাইন ডেস্ক: ইরানের অন্যতম পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন।সোমবার (৩০ নভেম্বর) তেহরানের ইমামজাদা সালেহর মাজার প্রাঙ্গনে তাকে দাফন করা হয়েছে। ইরানের এ বিজ্ঞানীকে শহীদের মর্যাদা দিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।

তেহরানে রাষ্ট্রীয় টিভির ফুটেজে দেখা যায়, ফাখরিজাদের কফিন দেশটির রাষ্ট্রীয় পতাকা দিয়ে মোড়ানো রয়েছে।
শীর্ষ এ বিজ্ঞানীর কফিনের চারপাশ ফুল দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে এবং কফিনের সম্মুখে ছবি লাগানো রয়েছে। পাশাপাশি জানুয়ারিতে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত কমান্ডার কাসেম সোলায়মানির ছবি দেখা যায়।

করোনাভাইরাসের কারণে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ফাখরিজাদের জানাজায় শুধু নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিই উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েক ডজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ফাখরিজাদের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন।

পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন থেকেই ফাখরিজাদেকে ইরানের গোপন পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির মূল ব্যক্তি বলে সন্দেহ করে এসেছে। কূটনৈতিকরা তাকে ‌‘ইরানের বোমার জনক’ আখ্যা দিয়েছিলেন।

শুক্রবার তেহরানের কাছে গুপ্ত হামলার শিকার হয়ে মারা যান তিনি। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ইরানের দীর্ঘদিনের শত্রু ইসরাইলকে দায়ী করেছে ইরানের রাজনৈতিক নেতারা ও সামরিক বাহিনী। দেশটির পক্ষ থেকে ফাখরিজাদেহের হত্যার প্রতিশোধের কথা বলা হয়।

২০১০ সাল থেকে ইরানের বেশ কয়েকজন পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যার জন্য ইসরাইলকেই দায়ী করে আসছে ইরান।

ইরানের অন্যতম পরমাণু বিজ্ঞানী ফাখরিজাদেহের হত্যাকারী ও এর নির্দেশদাতার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির শীর্ষনেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি বলেন, ফাখরিজাদেহ দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন।

জানাজায় উপস্থিত ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিগ্রেডিয়ার আমির হাতামি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে বলেন, শত্রুরা জানে আর একজন সৈনিক হিসেবে আমি তাদের বলছি, ইরানি জনগণ সব অপরাধ, সব সন্ত্রাস এবং সব নির্বোধ কাজেরই জবাব দেবে।

ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ফাখরিজাদেকে রিমোট কন্ট্রোলড মেশিনগান দিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে পাওয়া অস্ত্রে ইসরাইলের সমরাস্ত্র কারখানার লোগো ও নাম ছিল।

তবে ফাখরিজাদেহের মৃত্যুর জন্য ইসরাইলকে দায়ী করা হলেও দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ফাখরিজাদেহের ঘটনা নিয়ে সোমবার ইসরাইলি গোয়েন্দামন্ত্রী এলি কোহেন রেডিও স্টেশন ১০৩ এফএমকে বলেছেন, এই ঘটনার দায়িত্ব কার তিনি জানেন না ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!