ইরানের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নবায়নে তিন দেশের সায়

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রিটেন, জার্মানি এবং ফ্রান্স পরিস্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে তারা ইরানের ওপর নিরাপত্তা পরিষদের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ নবায়নের বিষয়টি সমর্থন করে।  গতকাল এক বিবৃতিতে এ  বিষয়টি জানায়। 

বিবৃতিতে তারা বলছে, ইউরোপীয় তিন দেশ ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে অঙ্গিকারাবদ্ধ। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী আগামি অক্টোবরে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হবার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। বিবৃতিতে দেশ তিনটি লিখেছে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিসহ প্রচলিত অস্ত্র রপ্তানির ওপর ইউরোপ আগামী ২০২৩ সাল পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ নবায়ন করবে। এ বিষয়ে তারা চীন এবং রাশিয়াসহ নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্য দেশের সঙ্গে আলোচনা করবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউরোপীয় তিন দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি ৪+১ গ্রুপের সদস্য হয়েও এমনকি পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় সহায়তাকারী হিসেবে দাবি করলেও এই সমঝোতার ব্যাপারে তাদের কার্যক্রম নেতিবাচক।

পরমাণু সমঝোতা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে বেরিয়ে যাবার পর এই চুক্তি টিকিয়ে রাখা অসম্ভব জেনেও তারা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে সবই ছিল ওয়াশিংটনের অনুসরণমাত্র। বিশেষ করে ইউরোপীয় এই ত্রোইকা ইরানের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নবায়নের মার্কিন প্রচেষ্টায় সায় দেয়ার মধ্যেই তার প্রমাণ মেলে।

মজার ব্যাপার হলো ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি আবার দাবিও করে যে তারা পরমাণু সমঝোতা মেনে চলছে এমনকি আন্তর্জাতিক এই সমঝোতা রক্ষায় চেষ্টার কোনো ত্রুটি তারা করবে না। আবার ইরানের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের চেষ্টা ও রাজনৈতিক চাপের বিরোধিতা করার অভিনয়ও করছে তারা।

গতকাল ইউরোপের এই তিন দেশের যে প্রস্তাবটি আণবিক শক্তি সংস্থার নির্বাহী পরিষদে অনুমোদিত হয়েছে, তাতে তেহরানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে ইরানের দুটি পরমাণু স্থাপনায় আইএইএ’র পরিদর্শকদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা যেন প্রত্যাহার করে নেয় এবং তাদের সঙ্গে যেন পরিপূর্ণ সহযোগিতা করে।

ইউরোপীয় এই তিন দেশ ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবসময়ই আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে পরমাণু সমঝোতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করলেও এই সমঝোতা রক্ষায় মূলত তাার কোনো পদক্ষেপই নেয় নি। বরং তারা কেবলই সময় ক্ষেপণ করেছে। ইনস্টেক্স নামের বিশেষ অর্থ ব্যবস্থার কথা বললেও তার বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয় নি তারা। ইরানের ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বন্ধ করার ব্যাপারে তারা আমেরিকার অনুসরণেই যে কাজ করছে তা স্পষ্ট। 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!