আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে হবে

আমাদের ভেতরকার প্রাণপাখীটা বড়ই চঞ্চল। সারাক্ষণ শুধু মন্ত্রণা দিয়ে বেড়ায়। দুনিয়ার সব খাহেশ আমাদেরকে ভুলিয়ে দেয় আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কথা। আল্লাহর স্মরণে যে আনন্দ তা আর কোনো কিছুতে পাওয়া যায় না।

আপনি যেহেতু এই লেখাটি পড়ছেন তাই ধরে নিতে পারেন আপনি একটি পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেছেন। বাকিটা পথ আল্লাহ নিজেই সহজ করে দিবেন। আমার এই লেখাতে ধারাবাহিক কয়েকটে ধাপে ধাপে এগুনোর পরামর্শ দিব।

  • নিয়ত করা। অন্তরকে পরিষ্কার করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নিয়ত করা।
  • ধৈর্য্য ধারন করা। তাড়াতাড়ি ফল আশা না করা।
  • নিয়মিত আমল করা।
  • কোনো কিছুই না করা থেকে বিরত থাকা। এবং আল্লাহ অপছন্দ করেনএমন কিছু না করা।

আমরা কি আমাদের কাজকর্ম দিয়ে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করছি নাকি অসন্তুষ্ট করছি। নিজেই নিজের উত্তর দিতে হবে। আল্লাহর অপছন্দের কাজ নিয়েই তো আমরা ব্যস্ত। যেহেতু আমরা চাই আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে দেখা যাক কি কি করা যায়।

তবে হাদিসে কুদসির বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, বান্দা আল্লাহকে যেভাবে স্মরণ করে, আল্লাহও বান্দাকে সেভাবে স্মরণ করেন। আল্লাহ বলেন, ‘হে মানুষ! যদি তুমি আমাকে মনে মনে স্মরণ করো, তবে আমি তোমাকে মনে মনে স্মরণ করব আর যদি তুমি আমাকে কোনো বৈঠকে স্মরণ করো তবে আমি তাদের চেয়ে উত্তম বৈঠকে তোমার স্মরণ করব।’ (কানজুল উম্মাল, হাদিস : ১১৩৪)

  • দোয়া। আমরা দুনিয়াবি ঝামেলাতে এমনই মগ্ন হয়ে যাই যে আমরা দোয়া করতে ভুলে যাই। আমাদের আত্নবিশ্বাস এমন পর্যায়ে যায় যে, আমরা অনেক সময় এও ভুলে যাই যে আল্লাহর হুকুম বা আদেশ ছাড়া কোনো কিছুই সংগঠিত হয় না।
  • খারাপ থেকে বিরত থাকা। সচরাচর সবাই বলেন হারাম থেকে বিরত থাকার কথা। আমাদেরকে আসলে শুধু হারাম থেকে নয় খারাপ সব কিছু থেকেই বিরত থাকতে হবে।
  • আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে তার গুণবাচক নাম দিয়ে জানতে হবে। আল্লাহর নিরানব্বইটি গুণবাচক নাম রয়েছে। সে নামগুলো ধরে ডাকলে আল্লাহ খুশি হন। ।
  • -আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তা‘আলা কোন বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরীল (আ.)-কে ডেকে বলেন যে, আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসী, তুমিও তাকে ভালোবাসো। রাবী বলেন, অতঃপর জিবরীল (আ.)-ও তাকে ভালোবাসতে থাকেন এবং আকাশে ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ তা‘আলা অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, তোমরাও তাকে ভালোবাসো। তখন আকাশমণ্ডলীর অধিবাসীরাও তাকে ভালোবাসতে শুরু করে। অতঃপর সে বান্দার জন্য জমিনেও স্বীকৃতি স্থাপন করা হয়। আর যখন আল্লাহ তা‘আলা কোন বান্দাকে ঘৃণা করেন, তখন জিবরীল (আ.)-কে ডেকে বলেন যে, আমি অমুক বান্দাকে ঘৃণা করি, তুমিও তাকে ঘৃণা করো। রাবী বলেন, অতঃপর জিবরীল (আ.)-ও তাকে ঘৃণা করেন এবং আকাশে ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ তা‘আলা অমুক ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন, তোমরাও তাকে ঘৃণা করো এবং আকাশবাসীরাও তার প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। অতঃপর তার জন্য জমিনেও ঘৃণা স্থাপন করা হয়। (মুসলিম)
  • নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের অনুসরণ করা। কেননা নবীজীর দেখানো পথই আল্লাহকে পাবার একমাত্র পথ। কোরআনে পাকেও এই নির্দেশ রয়েছে
  • ‘বল, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাসতে চাও, তবে আমাকে অনুসরণ কর। তাহ’লে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’। (আলে ইমরান ৩/৩১)।
  • সর্বশেষ কোরআনের সাথে লেগে থাকা। আমাদের অনেকেই কোরআন নিয়মিত পড়ি না। পড়তে পারি না। নিয়ম কোরআন পড়তে হবে। অনুবাদ বুঝতে হবে। তবেই আল্লাহর প্রিয় হওয়া যাবে। মনে নেই? বিদায় হজ্জের ভাষণে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন- “যতদিন তোমরা কোরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরে থাকবে ততদিন তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না”।
error: Content is protected !!