December 4, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

আরও ৬ মাস খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ, যেতে পারবেন না বিদেশে

শর্তসাপেক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় বাড়ানোর আবেদনে সম্মতি দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত ফাইল আইন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে গত ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার।তার দণ্ডের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হলে তিনি কারামুক্ত হন। ওই মুক্তির মেয়াদ ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে।

আনিসুল হক বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ শর্তসাপেক্ষে আরো ছয় মাস বাড়ানোর সুপারিশ করেছি। বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে তারা এই আবেদনে কিছু চায়নি। এ ছাড়া তারা স্থায়ী মুক্তির আবেদন করেছিল। সেখানে আমরা আইনগত দিক থেকে সাজা ছয় মাস স্থগিত করে এই সময় পর্যন্ত তাঁর মুক্ত থাকার মেয়াদ বাড়ানোর মতামত দিয়েছি।

‘খালেদা জিয়া আগে যে শর্তে মুক্ত ছিলেন, এখনো সেই শর্তেই থাকবেন। বাসা ও দেশে থেকে তিনি চিকিৎসা নিবেন’, যোগ করেন আইনমন্ত্রী।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়।

গত ২৫ মার্চ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে তাঁকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয় সরকার। মুক্তির পর থেকেই গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় আছেন তিনি, সেখানেই চলছে তাঁর চিকিৎসা। তবে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ব্যহত হচ্ছে, এমনটা জানিয়ে তাঁর ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার ছয় মাসের মুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। গত ২৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয় বলে শামীম ইস্কান্দার জানান।

গত ২৪ মার্চ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তাঁর গুলশানের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১-এর উপধারা ১ ধারা অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার সাজার কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়েছে। ওই দিন আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশ সরকার শর্তসাপেক্ষে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছয় মাসের জন্য তাঁর সাজা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুটি শর্তে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। সেগুলো হলো, এই সময়ে তাঁর ঢাকায় নিজের বাসায় থাকতে হবে এবং তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের পরের দিন ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়া জামিনে মুক্ত হয়ে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই আছেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে ছিলেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে ১১ মাস ধরে তিনি বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মামলা দায়ের হয়।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সর্ম্পকিত দুটি দুর্নীতির মামলায় ১৭ বছরের সাজা নিয়ে কারাভোগ করছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

error: Content is protected !!