আরও ১৫০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে আমেরিকা

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি:

অবৈধ ইমিগ্রান্ট হিসেবে আটকের পর ডিটেনশন সেন্টারে থাকা ৮৩জন বাংলাদেশিকে গত ২৫জুন রাতে দেশে বিশেষ ফ্লাইটে ফেরত পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আরো দেড় শতাধিক প্রবাসীকে আরিজোনায় জড়ো করার খবর পাওয়া গেছে। 

দালালকে মোটা টাকা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ঘুরে মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে এরা যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ত রক্ষীর হাতে গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের সময়েই তারা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এসাইলাম অফিসারের কাছে ইন্টারভিউ শেষে বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে সকলকে। এরমধ্যে বেশ ক’জন প্যারলে মুক্তি লাভে সক্ষম হলেও অবশিষ্টরা ইমিগ্রেশনের ডিটেনশন সেন্টারেই রয়েছেন। 

জানা গেছে, মেক্সিকো সীমান্ত পথে বেআইনীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারিদের এসাইলামের আবেদন প্রথম ইন্টারভিউতে বিবেচিত না হলেই দ্রুত নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়ার একটি রুলিং ২৫ জুন ইউএস নবম সার্কিট আপিলেট কোর্ট দিয়েছেন। এতে সেন্ট্রাল আমেরিকার লোকজনের সাথে কিছু বাংলাদেশিও বহিষ্কারের ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাদের একটি অংশ অর্থাৎ ৮৩ জনকে ইতিমধ্যেই বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন আরো ১৫০ জনকে যে কোন সময় বিমানে উঠিয়ে দেয়া হবে। তবে এর আগে সংশ্লিষ্ট সকলের জাতীয়তা নিশ্চিত হতে হবে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে। 

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার শামীম আহমদ জানান, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি থেকে প্রায় সময়েই আটক বাংলাদেশিদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেয়। তারা বাংলাদেশের নাগরিক কিনা সেটিও নিশ্চিত হতে চায়। ইতিপূর্বে ৮৩ জনকে বহিষ্কারের পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট থেকে আর কোন চিঠি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। 

নিউইয়র্কের এটর্নি মঈন চৌধুরী এসব বাংলাদেশি প্রসঙ্গে বলেন, ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী কঠোর নীতির কারণে এসাইলাম পাবার সম্ভাবনা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষ করে যারা মেক্সিকো হয়ে বেআইনি পথে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছেন তাদেরকে প্রথম ইন্টারভিউতেই এসাইলাম অফিসারকে কনভিন্স করতে হয় যে, দেশে ফিরিয়ে দিলে নির্ঘাত মৃত্যু অথবা বর্বরোচিত আচরণের ভিকটিম হতে হবে ক্ষমতাসীন সরকার অথবা সরকার দলীয় মাস্তানের হাতে। 

ডেমক্র্যাটিক পার্টির নেতা এই এটর্নি মঈন চৌধুরী আরো বলেন, এজন্যে অনেকের মামলা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত। ওই  নির্বাচনে ডেমক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জয়ী হলেই সকল জট অপসারিত হবে বলে আশা করছি। 

প্রসঙ্গত, ডোনান্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের ওপর নেমে আসে নানা ধরনের নির্যাতন। বিশেষ করে যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই, তাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে একরকম যুদ্ধই ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তাদের ধরতে নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন রাজ্যে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে।

আরও ১৫০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে আমেরিকাকরোনাভাইরাসের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প প্রথমে তিনমাসের জন্য সব ওয়ার্কিং ভিসা স্থগিত করেছিলেন। যা গত সপ্তাহে বাড়িয়ে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত করা করেছেন। এ নির্বাহী আদেশ জারি করার সময় তিনি অজুহাত হিসাবে উল্লেখ করেছেন, এখন আমেরিকানরাই অধিক সংখ্যায় বেকার। আমেরিকানদের বেকারত্ব দূর করতেই তিনি এ নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!