November 25, 2020

মাই পেটারসন. লাইফ

ভয়েস অফ দ্যা কমিউনিটি

আরও এক জাদুঘরকে মসজিদে রূপান্তরের নির্দেশ এরদোয়ানের

ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য হায়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরের ঠিক এক মাস পর ‘কারিয়ে মিউজিয়াম’ নামে পরিচিত চার্চটি মসজিদে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত এলো।
তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের একটি চার্চ, যা একসময় মসজিদ ছিল, কিন্তু বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেটিকে আবার মসজিদে পরিণত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, আজ শুক্রবার এ নির্দেশনা দেন এরদোয়ান।
প্রায় এক হাজার বছর পুরোনো এই জাদুঘর ইউরোপ-ঘেঁষা ইস্তাম্বুলের ‘গোল্ডেন হর্ন’ এলাকার প্রাচীন নিদর্শন।

ইস্তাম্বুলে খোরা এলাকায় এটি বাইজেন্টাইনরা চার্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল। চতুর্দশ শতকের অসাধারণ সব দেয়াল চিত্র দিয়ে ভবনটির ভেতরের দেয়াল সুসজ্জিত।

পরে অটোমানরা ১৪৫৩ সালে কনস্টানটিনোপোল তথা বর্তমান ইস্তাম্বুল দখল করে নিলে গির্জাটি মসজিদে পরিণত করা হয়, নাম হয় কারিয়ে মসজিদ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে তুরস্ক ধর্ম নিরপেক্ষতার পথ ধরে হাঁটলে কারিয়ে মসজিদটিকে জাদুঘরে পরিণত করা হয়।

আমেরিকার একদল শিল্প ইতিহাসবিদদের সহায়তায় ভবনটির চার্চ আমলের মোজাইক কারুকাজগুলো উদ্ধার করা হয়। সংস্কারকাজ শেষে ১৯৫৮ সালে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।এর আগে গত মাসে আদালতের রায়ে ইস্তাম্বুল শহরের খ্যাতনামা হায়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদে রূপান্তর করা হয়।

এক নজরে হায়া সোফিয়ার ইতিহাস:হাইয়া সোফিয়ার ইতিহাসের সূচনা ৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে যখন বাইজান্টাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ান ইস্তাম্বুলের গোল্ডেন হর্ন নামে এক জায়গায় একটি বিশাল গির্জা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন।সে সময় বিশাল গম্বুজের এই গির্জাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গির্জা এবং দালান বলে মনে করা হতো। ১২০৪ সালে ক্রসেডারদের হামলার ঘটনা বাদে কয়েক শতাব্দী ধরে হাইয়া সোফিয়া বাইজান্টাইনদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
অটোমান (ওসমান) বংশীয় সুলতান তৃতীয় মেহ্মেদ ১৪৫৩ সালে বাইজান্টাইন শাসকদের হাত থেকে ইস্তাম্বুল দখল করে নেন। তার আগ পর্যন্ত শহরটির নাম ছিল কনস্টান্টিনোপল। ইস্তাম্বুল দখলের পর বিজয়ী মুসলিম বাহিনী প্রথমবারের মতো গির্জার ভেতরে নামাজ আদায় করে।
অটোমান শাসকেরা এরপর হায়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করেন। মসজিদের চারপাশে চারটি মিনার তৈরি করেন। গির্জার সব খ্রিস্টান প্রতিকৃতি এবং সোনালি মোজাইকগুলো কোরানের বাণী দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়।এর পরের কয়েকশো বছর ধরে হায়া সোফিয়া ছিল অটোমান মুসলমান সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দু।১৯৩৪ সালে তুরস্কে ধর্মনিরপেক্ষতা চালু করার প্রক্রিয়ায় মসজিদটিকে জাদুঘরে পরিণত করা হয়।

error: Content is protected !!