আমেরিকায় করোনাকে জয় করে বাংলাদেশির আগমন

কান্না করতে করতে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে, এখন আর কান্নাও আসে না। থেমে নেই করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। কার্যত থেমে গেছে জনজীবন। করোনাভাইরাসে প্রিয়জন হারিয়ে শোকে কাতর অনেক পরিবার। নিউইয়র্কসহ আমেরিকায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন বাংলাদেশি আমেরিকানসহ হাজার হাজার মানুষ। মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। এভাবেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একজন জুয়েল মাহবুবুর। তিনি এনওয়াইপিডির পুলিশ কর্মকর্তা। পেশাগত দায়িত্বপালনকালে করোনায় আক্রান্ত হন। নিজে যখন আতঙ্কে, তখন আক্রান্ত হলেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও তাঁর ভাই।

এ নিয়ে পুরো পরিবার উদ্বেগ–উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিলেন। প্রায় এক মাস ধরে চলছিল করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হওয়ার লড়াই। ধীরে ধীরে জুয়েল সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু তখনো জীবনের সবকিছু উলট-পালট। কারণ করোনায় আক্রান্ত স্ত্রী নতুন অতিথিকে বাঁচাতে হাসপাতালে ভর্তি। দিন যায়, রাত আসে কিন্তু আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা কাটে না পরিবারের।

একদিকে স্ত্রী হাসপাতালে, অন্যদিকে স্ত্রীর ভাই। এর বাইরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অনাগত শিশু সন্তান। করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে চলছে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা।শেষমেশ প্রভু তাদের প্রতি সদয় হলেন। তাদের স্বপ্নের নতুন অতিথি পৃথিবীর আলোর মুখ দেখল।সন্তান জন্মের পর মাও করোনামুক্ত হলেন। এখন মা, বাবা, শিশু তিনজনই করোনামুক্ত। নতুন অতিথির মামার অবস্থাও উন্নতির দিকে।

নতুন অতিথির নাম রাখা হয়েছে সাকিফা।তার হাত ধরে যেন পুরো পরিবারে ফিরে এসেছে অনাবিল হাসি– আনন্দ, পুরো পরিবার হয়েছে করোনামুক্ত।

বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষ বলছেন, প্রতিদিন একেকজন করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন, শোক গ্রাস করছে পুরো পরিবারকে, পুরো কমিউনিটিকে। এতে অথই সাগরে পড়ছে বহু পরিবার, বদলে যাচ্ছে তাদের জীবনধারা। বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনের গল্প। জমা হচ্ছে একের পর এক বেদনাগাথা।এই যখন অবস্থা, একটি পরিবার যখন করোনায় আক্রান্ত, তখন নতুন অতিথির আগমন এবং পুরো পরিবারের করোনামুক্তি সবার জন্য খুশির খবর। এই নতুন অতিথি নতুন করে বাঁচার প্রেরণা জোগাবে সবাইকে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!