আবারও সিলেটে কিশোরী ধর্ষণ, মুয়াজ্জিনসহ গ্রেপ্তার ২

স্বামীকে বেঁধে রেখে সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের নতুন জামে মসজিদের ইমাম ও জামেয়া ইসলামিয়া আব্বাসিয়া কৌড়িয়া মাদ্রাসার শিক্ষক রুহুল আমিন শাহার (৩৫) কর্তৃক একই (ইসলামপুর) গ্রামের একটি অসহায় পরিবারের স্বল্প বাকপ্রতিবন্ধি ১৬ বছর বয়সী এতিম কিশোরীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসলামপুর গ্রামের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম মুসা জানান, দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে খাজাঞ্চী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের আবদুস শহিদের বাড়িতে লজিং থেকে লেখাপড়া শেষে কৌড়িয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি ও ইসলামপুর নতুন জামে মসজিদে ইমামতি করে আসছিলেন রুহুল আমিন শাহার। তিনি (রুহুল) সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে। আর এই বাড়ির একটি পরিবারে প্রায় দু’বছর ধরে কাজ করে আসছে ধর্ষণের শিকার একই গ্রামের ১৬ বছর বয়সী স্বল্প বাকপ্রতিবন্ধি কিশোরী।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এই প্রতিবন্ধী মেয়েকে ধরে নিয়ে তার শোয়ার ঘরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে রুহুল আমিন শাহার।

বৃহস্পতিবার (১অক্টোবর) এ ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে ইসলামপুর গ্রামের নতুন জামে মসজিদের ইমাম ও জামেয়া ইসলামিয়া আব্বাসিয়া কৌড়িয়া মাদ্রাসার শিক্ষক রুহুল আমিন শাহারকে প্রধান আসামি করে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর বড় বোন। বিষয়টি গ্রামের মাতব্বররা মীমাংসার কথা বলে কৌশলে ধর্ষককে পালিয়ে যেতে সহায়তা করায় ওই মামলায় আরও ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- খাজাঞ্চী ইউনিয়ন ইসলামপুর গ্রামের মখদ্দছ আলী (৬৩), চান্দ আলী (৫৫), লিয়াকত আলী (৫০), আবদুস শহিদ (৫২), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চন্ডীপুর গ্রামের মাওলানা আরিফ উদ্দিনের পুত্র মাহফুজ বিন আরিফ (১৯)। মামলায় অজ্ঞাতনামা রাখা হয়েছে আরও ৪/৫জনকে।

এদিকে অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে অভিযান চালিয়ে থানা পুলিশ এজাহারনামার আসামি ইসলামপুর গ্রামের মাতব্বর মখদ্দছ আলী ও মসজিদের মোয়াজ্জিন মাহফুজ-বিন-আরিফকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।

মামলা দায়ের ও দু’জন গ্রেপ্তার নিশ্চিত করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনর্চাজ শামীম মুসা বলেন, প্রধান আসামিসহ সব আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধর্ষণের শিকার কিশোরী সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত,গত ২৫ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। খবর পেয়ে রাতে গৃহবধূকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে শাহপরান থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো তিনজনকে আসামি করে পরের দিন সকালে নগরীর শাহপরান থানায় মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগীর স্বামী। এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!